শিরোনামঃ
ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত কক্সবাজারে শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যুবক গ্রেফতার মিরপুর কলেজের দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭ মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার: তথ্য উপদেষ্টা দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই : মির্জা ফখরুল
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, হামের মুক্তি কবে জানে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

দেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় এবং দুই মাসের বেশি সময় ধরে পরিচালিত বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচি সত্ত্বে রোগটি নিয়ন্ত্রণে না আসায় চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের লক্ষণ নিয়ে আট শতাধিক শিশুর অকালমৃত্যু হয়েছে এবং দৈনিক অগণিত নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগের বেশি অর্জিত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে রোগী আইসোলেশন সংক্রামক রোধ ও সামাজিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার জোরালো উদ্যোগ না থাকায় সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের পরিসংখ্যানের তুলনায় হামের টিকা কর্মসূচি থেকে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু বাদ পড়ার হিসাব সামনে আসায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে কেবল প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগের ওপর একমুখী নির্ভরতার কারণেই আক্রান্তের বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। আক্রান্ত শিশুকে অন্যান্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়ার মতো সমন্বিত সামাজিক স্বাস্থ্য পদক্ষেপের ঘাটতি দেখা গেছে। এমনকি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়ম মেনে সময়মতো দুই ডোজ টিকা পাওয়া বা বিশেষ ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া অনেক শিশুও হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। তবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে মারা যাওয়া ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই আগে কোনো টিকাদান সম্পন্ন করা ছিল না। ফলে মূল আক্রান্তের ঝুঁকির বড় জায়গা জুড়েই রয়েছে টিকাবঞ্চিত শিশুরা।

হামের টিকা নেওয়ার বয়স সাধারণত নয় মাস থেকে শুরু হলেও বর্তমানে আক্রান্তের বড় অংশটিই ছয় মাসের কম বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু। মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশই এমআর টিকা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। শিশুদের পুষ্টিহীনতা মায়ের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং মাতৃদুগ্ধের ঘাটতির কারণে উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগেই তাদের শরীরে প্রতিরোধব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তাই শুধু পাঁচ বছর নয় বরং আক্রান্তের বিস্তার ঠেকাতে দশ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের পুনর্টিকার আওতায় আনা এবং টিকাবঞ্চিতদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

অন্যভিত্তিক পর্যালোচনা দেখাচ্ছে যে টিকার ডোজ গ্রহণ করার পর শিশুর শরীরে প্রত্যাশিত মাত্রার অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত হয়েছে কি না তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়নি। চিকিৎসা গবেষকরা সুপারিশ করছেন যে টিকার কার্যকারিতা পরিমাপ করতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা চালিয়ে প্রতিরোধক্ষমতার সার্বিক চিত্র মূল্যায়ন করা উচিত। যদি টিকা নেওয়ার পরও ইমিউনিটি অর্জিত না হয়ে থাকে তবে বুস্টার ডোজ প্রদান করা জরুরি হয়ে পড়বে।

সরকারি তথ্যে বিশেষ ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করে ১০৩ শতাংশ অর্জনের দাবি করা হলেও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুর হিসাব পাওয়া গেছে। দুই সরকারি হিসেবের মধ্যে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ লাখ শিশুর এই ব্যবধান স্পষ্ট প্রমাণ করে যে ব্যাপক সংখ্যক শিশু টিকাদানের বাইরে রয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে অনুপরিকল্পনার অভাব ও জনসংখ্যার সঠিক ডেটা ব্যবহার না করায় লক্ষ্যমাত্রায় মারাত্মক ভুল থেকে গিয়েছিল। বাদ পড়া শিশুদের দ্রুগ টিকাকেন্দ্রে এনে টিকা সম্পন্ন করার জন্য সরকারের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন দায়িত্ব পালন করা দরকার।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে কেবল কাগুজে সাফল্যের পেছনে না ছুটে দ্রুত আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নিবিড় সার্ভেল্যান্স চালাতে হবে। একই সঙ্গে রোগী ব্যবস্থাপনা আইসোলেশন ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক নিয়ম বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সহসা এই সংক্রামক ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট


এ জাতীয় আরো খবর...