শিরোনামঃ
গৃহশিক্ষক নির্বাচন: কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরামর্শ সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলা অপরাধ : তথ্যমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক স্থাপনা স্থাপন করতে চাই: মির্জা ফখরুল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলেই মিলবে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল চালু করা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্তরাই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেহরক্ষী!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ভিআইপি যেমন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বডিগার্ড বা গানম্যানদের একটি বড় অংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে পুলিশে চাকরি পেয়েছিলেন। এমনকি সেই সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে যুক্ত থাকা এসব সদস্যদের বর্তমান সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় নতুন করে পদায়ন করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতীত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো প্রশাসনজুড়ে বিষয়টি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধান ও বিশেষ প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নবাগত সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পূর্বেই নীতিগতভাবে একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয় যে পূর্বে ভিআইপিদের বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত থাকা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে বিতর্কিত কোনো পুলিশ সদস্যকে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দেহরক্ষী হিসেবে পদায়ন করা যাবে না। তবে পরবর্তীতে অদৃশ্য তদবির, প্রভাবশালী মহলের বিশেষ সুপারিশ এবং কিছু ক্ষেত্রে লেনদেনের প্রভাবে সেই সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে প্রায় ১-১ জন পুলিশ সদস্যকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ বা এসবি থেকে গানম্যান হিসেবে পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগে যুক্ত থাকা, তৎকালীন সংসদ সদস্যদের সুপারিশে চাকরি পাওয়া এবং বিগত সরকারের মন্ত্রীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার অকাট্য তথ্য সামনে এসেছে।

বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত এই সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে ভিআইপিদের সঙ্গে প্রতিদিনের স্বাভাবিক আলাপচারিতার সময় তাদের অতীত পরিচয় প্রকাশ করে ফেলেন। বিষয়টি জানার পর দায়িত্বশীল মহল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পুরো বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি জরুরি ও গোপনীয় প্রতিবেদনে এ ধরণের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এসবিকে লিখিতভাবে জানান হয় যে, এ ধরনের অপরীক্ষিত পদায়ন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আস্থার সংকট ও ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।

তদন্তের গভীরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু কনস্টেবল ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের গানম্যান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও উপদেষ্টাদের সুরক্ষায় তাদের রাখা হয় এবং বর্তমানেও তারা একই গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দেহরক্ষী হিসেবে বহাল আছেন। উদাহরণস্বরূপ, সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষী পরবর্তীতে পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্বে পদায়িত হন। একইভাবে সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সুরক্ষায় থাকা সদস্যরা বর্তমানে নতুন সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এই একই ধারায় আরও অনেক বিতর্কিত গানম্যানকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল।

বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর এবং সদর দপ্তরের গোপনীয় প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশের জেরে তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দায়িত্বে থাকা অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তালিকায় থাকা আরও ৩০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যের সার্বিক অতীত রাজনৈতিক তথ্য ও পূর্বের পদায়ন বিশদভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক দলের পরিবর্তনের সাথে সাথে এ ধরণের স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ঝুঁকি বারবার ফিরে আসবে।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ মানি


এ জাতীয় আরো খবর...