শিরোনামঃ
পর্ন তারকার ২৪ হাজার ডলার অনুদান নিয়ে বিতর্ক সড়ক দুর্ঘটনার নামে টার্গেট কিলিং জিডিপির ৫ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল সরকারের কাজে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে পিআইডি’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রাপ্য মনে করলে সরকার সমিতিকে প্লট দেবে: গণপূর্তমন্ত্রী আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ সবার আগে বাংলাদেশ বললেও বিএনপি ভারতকে ভয় পাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম তরুণদের মাদকে ঠেলে দিয়েছে পতিত সরকার: অর্থ উপদেষ্টা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াবেন না: জামায়াত আমির
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

১৮০ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষ: এবার মাঠে নামছে বিএনপি সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২২ বার
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

আগামী ১৭ই আগস্ট পূর্ণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের মেয়াদের প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার নিবিড় পর্যবেক্ষণের মেয়াদও এখন শেষের পথে। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ভিভিআইপি প্রটোকল বর্জন, সরকারি পরিচালনায় কৃচ্ছতাসাধন, দুর্নীতি দমন এবং অতিসাধারণ জীবনযাত্রার মতো বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপে সরকার জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে এই ছয় মাস ধরে নীতি ও কৌশল প্রয়োগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এবার সরকার কঠোর ও কার্যকর অ্যাকশনে যেতে যাচ্ছে। একই সাথে দীর্ঘ এই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফলতা, ব্যর্থতা এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার পদ ও দায়িত্বে ব্যাপক রদবদল ঘটার শক্তিশালী সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিগত ছয় মাসে বেশ কিছু যুগান্তকারী সামাজিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে নতুন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়, যার অধীনে প্রতি পরিবারের নারী প্রধানদের মাসিক ২৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। আগামী ১৬ই আগস্ট কিশোরগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন করা হবে, যা আগামী চার বছরে এক কোটি ৬০ লাখ প্রান্তিক পরিবারের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফকরণ, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ট্রেন ও মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়, দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং অনাবাদী জমি ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়। শিক্ষাঙ্গনে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা ও মাদকবিরোধী টুর্নামেন্ট আয়োজন, শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ প্রদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করার মতো ইতিবাচক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে।
তবে প্রশংসনীয় এসব উদ্যোগের পাশাপাশি একাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে চরম চ্যালেঞ্জ ও সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে সরকারকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি কমানো ও বিদ্যুৎ লোডশেডিং বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তা ছাড়া মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যার সুযোগে রাজপথে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করে বিরোধী পক্ষগুলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানি ও দ্রুত ত্রুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় সরকারের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বেশ কিছু মন্ত্রী ও কর্মকর্তার অপরিণামদর্শী আচরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে নতুন প্রশাসনকে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটি বিশেষ দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অতিকথন ও বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও রাজপথ অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সংকট কেটে যায়। অন্যদিকে, বিগত আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সংকট উত্তরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া বিগত দেড় দশকের দলীয়করণের ফলে ধসে পড়া পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার করা এবং প্রশাসনের অদক্ষ বা উসকানিমূলক কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোও ছিল সরকারের জন্য একটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক বাধা।
সরকারের এই ১৮০ দিনের গতিপথ বিশ্লেষণ করে অভিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় অধ্যাপকরা মনে করছেন যে, সাড়ে পাঁচ মাসের মতো অল্প সময়ে একটি নতুন সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে স্বৈরাচারী শাসনের দীর্ঘ ছায়া থেকে মুক্ত হতে হলে দলবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস করা জরুরি ছিল, যা সরকার করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং বাজার ব্যবস্থার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘমেয়াদে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন করতে না পারলে অর্জিত সাফল্যগুলো ম্লান হয়ে যেতে পারে।
সামনে আসা ছয় মাস পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে বিএনপি সরকার তাদের এই ১৮০ দিনের নীতিগত অর্জন ও ভবিষ্যৎ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে শূন্য সহনশীলতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন, বৈদেশিক শ্রমবাজার প্রসার, নিত্যপণ্যের কর হ্রাস এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ায় যেসব মন্ত্রী দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেননি, তাঁদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে সরকার একটি গতিশীল ও দক্ষ টিম গঠন করে নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মানবজমিন


এ জাতীয় আরো খবর...