শিরোনামঃ
নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের অবৈধ অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশ-ইইউ একসঙ্গে কাজ করবে দেশের কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু ৫ ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন, ২১ জানুয়ারি শুরু বিএনপির নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী আচরণ না করার আহ্বান রিজভীর সারা দেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা কমফোর্ট জোন: কারার ঐ লৌহকপাট… গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আইএমএফের ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

অবৈধ অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশ-ইইউ একসঙ্গে কাজ করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, দক্ষ কর্মীদের বৈধভাবে ইউরোপে পাঠানো এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহযোগিতা জোরদার করতে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইইউর স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় ইইউর সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে ইউরোপের শ্রমবাজারে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করা উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার। অবৈধ অভিবাসন কমলে ইউরোপের শ্রমবাজারে বৈধ পথে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ আরও সহজ হবে। বৈঠকে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রায় সাড়ে সাতশ দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় সনদসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ প্রস্তাবে ইইউ প্রতিনিধি দল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে তিনি জানান।

বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধী শনাক্ত করার লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটি ইন্টারপোলের ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি (ফ্রন্টেক্স)-এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে এ সংকট বাংলাদেশের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে ইইউর সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি। এ বিষয়ে যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...