রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

মহাসড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা: ১৪০ কোটি টাকায় তৈরি ২৪ ট্রমা সেন্টারই অচল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে দুর্ঘটনার ক্ষত আর স্বজনহারা মানুষের আহাজারি। দূরপাল্লার যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়তই রক্তাক্ত হচ্ছে রাজপথ। অথচ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার একটি চমৎকার পরিকল্পনা নিয়েছিল রাষ্ট্র। সেই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই দশকে দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কের পাশে নির্মাণ করা হয়েছিল ২৪টি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার। সরকারের অন্তত ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা এসব আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রের মূল লক্ষ্যই ছিল দুর্ঘটনার পরপরই ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে আহতদের জীবন বাঁচানো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এই বিপুল অঙ্কের জনগণের টাকায় নির্মিত ট্রমা সেন্টারগুলোর একটিও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করতে পারেনি। কোথাও নামমাত্র বহির্বিভাগ খোলা রেখে দায় সারা হচ্ছে, কোথাও ভবনগুলো অন্য চিকিৎসালয়ের বর্ধিত অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার অধিকাংশ কেন্দ্রই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থেকে ভূতুরে ভবনে রূপ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটে এসব অবকাঠামো কার্যত কোনো কাজেই আসছে না, অন্যদিকে মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনার হার এবং হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে গিয়ে ঠেকছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি খতিয়ানের চেয়েও অনেক বেশি। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করা, মাথায় কিংবা বুকে মারাত্মক আঘাত সামাল দেওয়া কিংবা চূর্ণবিচূর্ণ হাড়ের জরুরি প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মহাসড়কের কাছাকাছি একটি সচল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ট্রমা সেন্টার থাকলে দ্রুত প্রাথমিক স্থিতিশীলতা এনে প্রয়োজনে উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের মাধ্যমে অসংখ্য অমূল্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। কিন্তু সেই মৌলিক জরুরি ব্যবস্থার চরম অনুপস্থিতির কারণে আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিভাগীয় হাসপাতাল বা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে হয়, যার পথেই অনেকের নিথর দেহ পড়ে থাকে।

এই চরম মানবিক সংকট দূরীকরণের স্বপ্ন দেখিয়েই মূলত ২০০৪-০৫ অর্থবছরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর পাশে প্রথম ধাপে ১০টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সঙ্গে সংগতি রেখে ২০১০ সালে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪টি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দুই ধাপে নির্মিত এই ২৪টি কেন্দ্রের অবকাঠামো দাঁড় করাতে ব্যয় হয় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ইট-পাথরের সুরম্য অট্টালিকা দাঁড়িয়ে গেলেও বিগত দুই দশকে এগুলোতে স্থায়ী চিকিৎসাসেবা চালু করার কোনো সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। নির্মিত ২৪টি সেন্টারের মধ্যে মাত্র দুটিতে কোনোমতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগের প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়। আরেকটি কেন্দ্রকে পার্শ্ববর্তী জেলা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিকস ওয়ার্ডের বিকল্প ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ২১টি ট্রমা সেন্টার বছরের পর বছর ধরে পুরোপুরি অচল, যার ভেতরের কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি অনেক আগেই মরিচা ধরে কিংবা প্যাকেটবন্দী অবস্থায় নষ্ট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ বিষয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, দেশে একের পর এক চার লেন ও ছয় লেনের আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে বা মহাসড়ক তৈরি হলেও সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় জরুরি নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বছরই রাজপথে অকালমৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করেই দুই দশক আগে এই ট্রমা সেন্টারগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এক অদৃশ্য কারণে এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় কোটি কোটি টাকার এই কেন্দ্রগুলো আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার এখন নতুন করে এগুলো চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক, তবে কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের জীবনরক্ষাকারী একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সার্বক্ষণিক জরুরি শল্যচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অন্তত ১৪ জন বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক পদায়নের কথা ছিল। এর মধ্যে সাতজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, তিনজন হাড়ভাঙা বিশেষজ্ঞ বা অর্থোপেডিক সার্জন, জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য দুজন অ্যানেসথেসিস্ট এবং দুজন সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ১০ জন দক্ষ নার্স এবং প্রয়োজনীয় রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট জনবল কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রকল্প বাস্তবায়নের এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অর্থ মন্ত্রণালয় বা জনপ্রশাসন থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে কেন্দ্রগুলোতে যেমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, তেমনি জটিল অপারেশনের সুযোগ না থাকায় জরুরি রোগী ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম সরঞ্জামও অনেক কেন্দ্রে পৌঁছায়নি।

কিশোরগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক সংলগ্ন ভৈরব ট্রমা সেন্টারটি এই চরম অব্যবস্থাপনার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মতো অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চলের পাশে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে আজও পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভবন থাকলেও বিশেষজ্ঞ সার্জনের অভাবে গুরুতর আহত কোনো রোগীকে সেখানে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জের ছাতক ট্রমা সেন্টারেও। জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, স্থায়ী পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগ না থাকায় এই ট্রমা সেন্টারটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাঝেমধ্যে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের দিয়ে কিছু প্রাথমিক সেবা চালানো হলেও এটি কোনোভাবেই একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারের সেবা হতে পারে না।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত সুচিকিৎসার অভাবে কীভাবে তরতাজা প্রাণ ঝরে যায়, তার অন্যতম বড় ও মর্মান্তিক উদাহরণ হলো ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা। এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থল হওয়ায় এই অঞ্চলে নিয়মিত দ্রুতগতির যানবাহনের সংঘর্ষ ঘটে। হাইওয়ে পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত নয় মাসে শুধুমাত্র এই একটি উপজেলাতেই সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তিন শতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনার তীব্রতার কথা স্মরণ করে ভাঙ্গার সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তানসিভ জুবায়ের নাদিম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই রক্তক্ষরণ বন্ধ ও প্রাথমিক শক সামলাতে ট্রমা সেন্টার জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে। ভাঙ্গা দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এখানে কোনো বিশেষায়িত ট্রমা সুবিধা না থাকায় গুরুতর আহতদের বহু দূরে পাঠাতে হয়। ফলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভাঙ্গা অঞ্চলে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকত, তবে এই নিহতদের একটি বড় অংশকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আধুনিক ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্য খাতের লক্ষ্য পূরণ হয় না, তার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি। প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুশতাক হোসেনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে শুধু একটি ফাঁকা অবকাঠামো তৈরি করে বসে থাকলে চলবে না। সেখানে ট্রায়াজ বা রোগীর অবস্থা অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, তাৎক্ষণিক প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অতি দ্রুত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংকটজনক রোগীকে দ্রুত স্থানান্তর করার সুনির্দিষ্ট এসওপি বা কার্যপদ্ধতি থাকতে হবে। পাশাপাশি ট্রমা সেন্টারগুলোকে এককভাবে ফেলে না রেখে সেগুলোর সঙ্গে নিকটবর্তী জেলা সদর হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সার্বক্ষণিক নেটওয়ার্ক ও সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সহায়তা পাওয়া যায়।

দীর্ঘ দুই দশকের অবহেলা ও ব্যর্থতার পর অবশেষে এই অকার্যকর ট্রমা সেন্টারগুলোকে নতুন জীবন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ও অকেজো ট্রমা সেন্টারগুলোর ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলোকে যুগোপযোগী করার মাধ্যমে ‘অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নতুন রূপরেখায় চালু করার একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিটি সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও নার্স পদায়ন করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে এগুলোকে পর্যায়ক্রমে সচল করা হবে।

এই রূপরেখার অগ্রগতির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাক্তার ফোয়ারা তাসনিম জানান, মহাসড়কের ট্রমা সেন্টারগুলোকে সম্পূর্ণ কার্যকর করতে ইতিমধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই সেন্টারগুলোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। শুধু সেন্টার চালু করাই নয়, মহাসড়কে আহত ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য দুর্ঘটনাপ্রবণ কৌশলগত মহাসড়কগুলোতেও প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শেষে নতুন ট্রমা সেন্টার নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অতীতের মতো এবার যেন কেবল প্রকল্প ও আশ্বাসের চক্রে আটকে না থেকে রাজপথের নিরীহ যাত্রীদের জীবন রক্ষায় এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।

তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা


এ জাতীয় আরো খবর...