শিরোনামঃ
বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি সওজের ৪০০ স্থাপনায় বসছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল রুফটপ সোলারে অর্থায়নে ইডকল ও সরকারের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি জাল সনদ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় এপিইউবি ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেল ২৫৩ ইউনিয়ন পরিষদ বিএনপির মুখে হচ্ছে জুলাই সনদ আর অন্তরে আ. লীগ: হাসনাত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলো গ্রামীণ কল্যাণ সেনাসদস্যদের ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন: সাভারে প্রধানমন্ত্রী অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক হোসেন পিস্তল হাতে অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা: ডিবিপ্রধান
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন

আর্থিক খাতের জোড়া সংকট: উন্নয়ন ব্যয়ের সক্ষমতা হ্রাসের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ঋণের চড়া সুদের যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক জটিল ও বহুমাত্রিক সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। একদিকে সীমিত রাজস্ব আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ-আসল পরিশোধে, যার ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো অপরিহার্য মৌলিক খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের ওপর মারাত্মক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দ্রুত এগিয়ে নিতে গিয়ে যে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে উঠছে, সেখানে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক আন্তঃসংযোগজনিত দুর্বলতা। এই দুই ভিন্নধর্মী অথচ গভীর সংকট একই সাথে সক্রিয় হওয়ায় দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নীতি নির্ধারকদের জন্য এক বিরাট নীতিগত চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর এই দ্বিমুখী সংকটের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বৈশ্বিক ঋণ পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের তীব্র চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। কয়েক বছর আগেও উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের রাষ্ট্রগুলোকে তাদের মোট জাতীয় রাজস্বের গড়ে ৮ শতাংশ ব্যয় করতে হতো ঋণের কিস্তি মেটাতে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, ঋণের অতিরিক্ত সুদ এবং মুদ্রার মানের পতনের কারণে বর্তমানে রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশই ঋণ পরিশোধের খাতে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি কেবল ঋণের দায় মেটাতেই খরচ হয়ে যায়, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে সাধারণ নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত তহবিল অবশিষ্ট থাকে না।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক এই সতর্কবার্তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানদণ্ডে অত্যন্ত নিচের সারিতে অবস্থান করছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় করজালের আওতা অত্যন্ত সীমিত এবং কর ফাঁকি ও প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা রাজস্ব আহরণের গতিকে সবসময় শ্লথ করে রেখেছে। রাজস্ব আহরণের এই চরম সীমাবদ্ধতার বিপরীতে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। কিন্তু ঋণের এই ক্রমবর্ধমান পাহাড় এখন অর্থনীতির নিজস্ব রক্তক্ষরণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজেটের একটি বিশাল অংশ যদি প্রতি বছর সুদ ও আসল পরিশোধেই চলে যায়, তবে নতুন নতুন জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বজায় রাখা এবং প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বৃদ্ধি করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক মানবসম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে বাজেট সংকোচন দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত রাখতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ, কারিগরি জ্ঞান এবং সুস্থ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কোনো বিকল্প নেই। ঋণ পরিশোধের চাপে পড়ে যদি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা, গবেষণাগার উন্নয়ন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং পুষ্টি কার্যক্রমে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব কেবল একটি অর্থবছরে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং গোটা জাতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে পড়তে হয়। এর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঘাড়ে চেপে বসেছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের মারাত্মক ওঠানামা। বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে বৈদেশিক উৎস থেকে অতীতে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল, টাকার মানে তা পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থানীয় মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সুদের হারের ঊর্ধ্বগতি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল মূল্য সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এমন সংকটময় বাস্তবতায় কেবল নতুন ঋণ নিয়ে পূর্বের ঋণ শোধ করার পুরনো ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে অতিমাত্রায় সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি ঋণের অর্থ যেন কেবল প্রত্যক্ষ উৎপাদনশীল ও টেকসই আয়বর্ধক প্রকল্পেই বিনিয়োগ করা হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প থেকে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ উন্মুক্ত হবে, কেবল সে ধরনের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোকেই ছাড়পত্র দেওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া লোকসানি উদ্যোগ এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বারবার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্পগুলোর লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি। সময়মতো প্রকল্প শেষ না হলে যে অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের বোঝা জনগণের কাঁধে চাপে, তা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা তাঁর বক্তব্যে মূল্যস্ফীতিকে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক নির্মম ‘অদৃশ্য কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন তাদের সঞ্চয় ফুরিয়ে যায় এবং জীবনধারণের অনিশ্চয়তা বাড়ে। এই অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকারের যেমন স্পষ্ট ও কার্যকর বাজার নীতিমালা প্রয়োজন, তেমনি বেসরকারি খাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জর্জিয়েভা জানান, বিশ্বব্যাপী এই সংকট প্রশমনে আইএমএফের পভার্টি রিডাকশন অ্যান্ড গ্রোথ ট্রাস্ট বা পিআরজিটির আওতায় সহজ শর্তের ঋণের সক্ষমতা আগের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আর্থিক সংস্কারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে আইএমএফের এসব সুবিধার সুফল বাংলাদেশ কতটা ঘরে তুলতে পারবে, তা নির্ভর করবে শর্তযুক্ত ঋণের সঠিক ব্যবহার এবং নিজস্ব আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর। সহজ শর্তের ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ করের আওতা বাড়ানো, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং বড় বড় ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা ছাড়া রাজস্বের ভিত্তি মজবুত করা যাবে না।

ঋণ পরিশোধের এই দৃশ্যমান সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দ্বিতীয় যে নীরব ঝুঁকিটি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, তা হলো ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থিক প্রযুক্তির সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম নেটওয়ার্ক ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের অভূতপূর্ব প্রসার ঘটেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষও এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করছেন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে এক বিশাল বিপ্লব। কিন্তু এই ডিজিটাল প্রসারের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো ও প্রযুক্তিগত তদারকির সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন একটি একক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মধ্যে পরস্পরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে একটি ব্যাংকের বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তিগত দুর্বলতা মুহূর্তে সমগ্র পেমেন্ট নেটওয়ার্ককে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে হ্যাকার ও আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলো অত্যন্ত জটিল ও সুনির্দিষ্ট সাইবার হামলার কৌশল গ্রহণ করছে। ব্যাংককের সম্মেলনে ‘ফিউচার অব ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এই নতুন প্রযুক্তিগত হুমকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ক্রিস্টিনা পাপাকনস্টান্টিনু এবং আইএমএফের ডেপুটি ডিরেক্টর মিকেলা এরবেনোভা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়ছে, আর্থিক ব্যবস্থার আন্তঃসংযুক্তির কারণে সিস্টেমিক রিস্ক বা পদ্ধতিগত ঝুঁকিও তত জটিল রূপ নিচ্ছে। কোনো একটি ব্যাংকের সার্ভারে তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার আক্রমণ কিংবা প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের মৌলিক আস্থা ভেঙে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এই ধরনের ডিজিটাল হুমকিকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

এই নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইএমএফের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম বা এফএসএপির মূল্যায়ন কাঠামোতেও বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থার আওতায় ২০২৬ সালের নতুন পর্যালোচনায় চিরাচরিত ঋণঝুঁকি বা মূলধন পর্যাপ্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, সাইবার হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার আন্তঃসংযোগকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত নজরদারি সক্ষমতা আধুনিকায়ন করা এখন বাধ্যতামূলক। ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি স্তর নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট বা পেনিট্রেশন টেস্টিংয়ের আওতায় আনা, সাইবার হামলার পর দ্রুততম সময়ে লেনদেন পুনরুদ্ধার করার মহড়া নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে।

পরিশেষে এটি স্পষ্ট যে, ঋণ পরিশোধের আর্থিক ভার এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার অদৃশ্য ঝুঁকি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; উভয়েই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ঋণের বোঝা সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে, আবার প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ডিজিটাল আর্থিক খাতের ওপর থেকে মানুষের আস্থা ধসে পড়বে। তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রয়োজন এক সমন্বিত, সাহসী ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক রূপরেখা। যেখানে একদিকে থাকবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির কঠোর সংস্কার, ঋণের কার্যকর উৎপাদনশীল ব্যবহার এবং জনকল্যাণমূলক খাতের সুরক্ষা; অন্যদিকে থাকবে সাইবার সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জকে সঠিকভাবে সামাল দিতে পারলেই দেশের অর্থনীতি তার নিজস্ব গতিতে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।

তথ্যসূত্র: নয়া দিগন্ত


এ জাতীয় আরো খবর...