শিরোনামঃ
গডফাদার রেখে বস্তিতে ‘ফাটাকেষ্ট’ অ্যাকশন: বিতর্কের মুখে পদ ছাড়লেন ইশরাক রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে ইশরাককে অস্ত্র হাতে নামতে হয়েছে: আখতার সালাহউদ্দিনের ব্যর্থতার দায় ইশরাকদের নিতে হবে কেন? প্রশ্ন হাসনাতের মন্ত্রিসভার যে কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করলেন ইশরাক ক্যান্সার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজার বার্তা সর্বজনীন, সকল সম্প্রদায়ের: রিজভী সারাদেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে সর্বজনীন পেনশনে সুখবর, লাভবান হবেন গ্রাহকরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

গডফাদার রেখে বস্তিতে ‘ফাটাকেষ্ট’ অ্যাকশন: বিতর্কের মুখে পদ ছাড়লেন ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর বস্তিতে দলবল নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে ধরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের মুখে অবশেষে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের এক দিন পর সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন বেলা দুইটার কিছু আগে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাবে পৌঁছান ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। এর আগে সোমবার সকালেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হলো।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, দল চায়নি কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবং দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে তাঁর অভিযান নিয়ে কিছুটা সত্য এবং কিছুটা অতিরঞ্জিত কল্পকাহিনি প্রচার করে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইশরাকের দাবি, একটি বিশেষ বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরি করে পুরো ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অসম্মানিত হয়েছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক দলও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তবে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেও দমে না গিয়ে এখন থেকে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামার এবং মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য পদত্যাগী এই প্রতিমন্ত্রী।

যদিও ইশরাক হোসেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগের দাবি করেছেন, তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট সংলগ্ন বস্তিতে পিস্তল হাতে তাঁর অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সরকার ও সরকারি দল চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে। একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণকে সরকারপ্রধান ভালোভাবে নেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববারই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন। মূলত সরকারপ্রধানের সেই কঠোর অবস্থানের কারণেই সোমবার প্রেসক্লাবে এসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ইশরাক হোসেন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গেন্ডারিয়ার ওই বস্তিতে ইশরাক হোসেনের সিনেমার আদলে চালানো এক অভিযানকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে মাইক এবং অন্য হাতে কালো রঙের পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নামছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি পিস্তলের স্লাইড টেনে নলটি একদল সাধারণ মানুষের দিকে তাক করেন এবং চিৎকার করে তাঁদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। সে সময় আশপাশে থাকা শিশুরা ভয়ে ও আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। নিজের ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওটি ইশরাকের অ্যাকশন হিসেবে প্রচার করা হলে নেটিজেনদের অনেকেই সেটিকে চলচ্চিত্রের ফাটাকেষ্ট চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে নায়ক দেশের প্রচলিত আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর অবশ্য ভিডিওতে থাকা পিস্তলের অংশটুকু ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছিল।

ওই অভিযানে কেবল অস্ত্র প্রদর্শনই করা হয়নি, বরং প্রান্তিক মানুষের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও বিনা বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অভিযানে আটক এক দরিদ্র ব্যক্তি যখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতি জানাচ্ছিলেন, তখন প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষী তাঁকে নির্মমভাবে লাথি মারেন। এছাড়া সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া সাদা পাউডার কোনো গবেষণাগারে পরীক্ষা করার আগেই ফেসবুকে রায় দিয়ে তাঁদের মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে ইশরাক দাবি করেছেন, ওই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয় এবং পুলিশের সঙ্গে ত্রিশ-চল্লিশবার বৈঠক করেও কোনো ফল মেলেনি। এমনকি অতীতে সেখানে ছয়জন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজের বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্রটি তিনি কেবল সতর্কতা ও আত্মরক্ষার খাতিরেই হাতে নিয়েছিলেন, কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়।

কিন্তু সদ্য সাবেক প্রতিমন্ত্রীর এই যুক্তি দেশের প্রচলিত অস্ত্র আইন ও পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই হাজার পঁচিশ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার পঁচিশ অনুচ্ছেদের ক উপ-অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে বৈধ অস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বহন বা ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অন্যের মনে ভীতি বা বিরক্তি তৈরি করে এমনভাবে জনসমক্ষে প্রদর্শন বা উঁচিয়ে ধরা যাবে না। অন্যদিকে পুলিশের ওয়ারী বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী ওই অভিযানের বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ওই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তিনশ পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই বস্তিতে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তাছাড়া গত এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মে মাস থেকে সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ইশরাক হোসেনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরজা খোলা ছিল এবং পুলিশ ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতাও তাঁর ছিল। তা না করে ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও দলবল নিয়ে পিস্তল হাতে বস্তিতে নামা মূলত রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে নিজের মুখে স্বীকার করে নেওয়ারই শামিল।

অপরাধ ও মাদক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ না করে এবং নেপথ্যের রাঘববোয়ালদের অক্ষত রেখে বস্তির দু-চারজন দরিদ্র মানুষকে পিস্তলের মুখে ধরে আনলে ফেসবুকে বাহবা পাওয়া গেলেও মাদকের মূল ব্যবসার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না। জাতিসংঘ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার কোটি টাকার মাদক প্রবেশ করে। দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলে এর মাত্র দশ শতাংশ বা বছরে গড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মাদক জব্দ করতে সক্ষম হয়। গত পাঁচ বছরে জব্দ হওয়া মাদকের মূল্য আনুমানিক বারো থেকে সতেরো হাজার কোটি টাকা হলেও বাকি নব্বই শতাংশ মাদকই দেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশে প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা হয়, যার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলো রাজধানী ঢাকা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, কেবল ঢাকা শহরেই প্রতিদিন দশ লাখের বেশি পিস ইয়াবা বিক্রি হয়, যার খুচরা বাজারমূল্য পনেরো থেকে পঁচিশ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ফেনসিডিল, হেরোইন ও আইসের মতো ভয়ানক মাদক মিলিয়ে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রবেশ করে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ কোটি টাকার নেশাদ্রব্য। অর্থাৎ মাসে কেবল ঢাকাতেই মাদকের বাজারের আকার নয়শ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার হিসাব মতে, মাদক বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার একশ সাতচল্লিশ কোটি টাকা বা চারশ একাশি মিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

এই হাজার হাজার কোটি টাকার মাদক সাম্রাজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল বস্তির কোনো প্রান্তিক মানুষ পরিচালনা করে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় সারা দেশে এক হাজারের বেশি মাদক গডফাদারের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে, যার মধ্যে কেবল ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতেই রয়েছে সাতাশি জন শীর্ষ গডফাদার। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে জেনেভা ক্যাম্পের ভুঁইয়া সোহেল, মোহাম্মদ সেলিম এবং পল্লবীর ফাতেমা বেগমের মতো কুখ্যাত নাম। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মাত্র উনচল্লিশটি মানি লন্ডারিং মামলায় একশ ষোলোজন শীর্ষ গডফাদারের একশ বিরাশি কোটি বিয়াল্লিশ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফের শফিক আহমেদের পঁয়তাল্লিশ কোটি চব্বিশ লাখ টাকা, কুতুবউদ্দিনের তেত্রিশ কোটি একানব্বই লাখ টাকা, মোহাম্মদ আলীর তেরো কোটি আশি লাখ টাকা, ঢাকার আদাবরের নুরুল ইসলাম ও রাজিয়া ইসলামের তেরো কোটি টাকা এবং সাবেক এমপি বদির ভাই আবদুস শুক্কুরের তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য উল্লেখযোগ্য। এই প্রভাবশালী গডফাদারদের সিন্ডিকেটে হাত না দিয়ে বস্তিতে পিস্তল উঁচিয়ে অভিযান চালানো মূলত আসল সংকটকে আড়াল করার নামান্তর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইশরাক হোসেনের প্রয়াত পিতা সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাত্তরের বীর গেরিলা যোদ্ধা এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও তাঁর সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সেই লড়াইয়ে তাঁর কোনো কালো পিস্তলের প্রয়োজন পড়েনি। তিনি পাড়ার মুরুব্বি, তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম এবং শিক্ষকদের সাথে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধের দেয়াল গড়েছিলেন। পিতার সেই সামাজিক আন্দোলনের বিপরীতে পুত্রের পিস্তলনির্ভর অভিযানের ফলেই আজ তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে হলো। সচেতন মহলের মতে, দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে আইন তুলে নেওয়ার এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোখায় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ এবং ইশরাকের পদত্যাগ একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও, মাদকের মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরপেক্ষ অভিযান জোরদার করা অপরিহার্য।


এ জাতীয় আরো খবর...