বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাত আজ এক নজিরবিহীন কাঠামোগত অচলাবস্থার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। অতীতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, লাগামহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তায় দেশের ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে ব্যাংকের শাখাগুলোতে স্বাভাবিক লেনদেন ও দৃশ্যমান পরিচালনা মুনাফা দেখা গেলেও ভেতরের চিত্রটি চরম রক্তক্ষরণে জর্জরিত। একদিকে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণের সুবিশাল পাহাড়, অন্যদিকে সেই অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা পুরো খাতের নিট আয়কে ঋণাত্মক করে তুলেছে। প্রতি প্রান্তিকেই বাড়ছে খেলাপি ঋণের নতুন বোঝা, যার কারণে আয়ের প্রধান উৎস হারিয়ে বহু ব্যাংক এখন গভীর আর্থিক লোকসানের ঘূর্ণিপাকে আটকে গেছে। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আটকে থাকা বিপুল রাজস্ব পুনরুদ্ধার করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন একযোগে আইন সংস্কার, কঠোর তদারকি এবং অনাদায়ী ঋণ আদায়ের বহুমাত্রিক মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সংগৃহীত তথ্যে এই সংকটজনক পরিণতির গভীরতা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের সামগ্রিক ব্যাংক খাত পরিচালন পর্যায়ে ৭৮৯ কোটি টাকা মুনাফা দেখালেও প্রভিশন ঘাটতি সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত হিসাবে নিট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকায়। কোনো খাতের স্বাস্থ্য পরিমাপের মৌলিক সূচক হিসেবে বিবেচিত সম্পদ থেকে প্রাপ্তি বা রিটার্ন অন অ্যাসেট (আরওএ) বর্তমানে ঋণাত্মক ১ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এর চেয়েও মারাত্মক বিপর্যয় দেখা গেছে মূলধনের ওপর প্রতিদান বা রিটার্ন অন ইকুইটির (আরওই) ক্ষেত্রে, যা ঋণাত্মক ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশে ঠেকেছে। ব্যাংকিং খাতের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এখন নিজেদের দৈনন্দিন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। নথিপত্র অনুযায়ী, দেশের অন্তত বাইশটি ব্যাংক বর্তমানে বিশাল অংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের বোঝা বহন করছে, যার আর্থিক পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোর এই দীর্ঘস্থায়ী লোকসানের কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও তাদের অন্যতম বড় করপোরেট কর আহরণের ক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই সামগ্রিক আয়ের সংকটের মূল মূলে রয়েছে অতি উচ্চমাত্রার অনাদায়ী ও শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ, যা বর্তমানে গোটা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জুন মাস শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকায়। কিন্তু চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিকৃত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই চিত্রটি রীতিমতো ধ্বংসাত্মক। সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে গড় খেলাপি ঋণের হার ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ভেতর জনতা ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৭৫ শতাংশই এখন অনাদায়ী খেলাপি। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এমন অবস্থায় পৌঁছালে তা বহু আগেই দেউলিয়া হয়ে যেত, কেবল সরকারি মালিকানার কারণে বিশেষ সহায়তায় এটি এখনো কোনোমতে টিকে আছে। এসব শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে কোনো সুদ আয় আসে না, অথচ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী এসব ঝুঁকিপূর্ণ দায়ের বিপরীতে বিপুল অর্থ সঞ্চিতি হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আটকে রাখতে হয়। বর্তমানে খাতটিতে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতির মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায়, যা ব্যাংকগুলোর বছরান্তের মুনাফাকে পুরোপুরি গ্রাস করে নিচ্ছে।
অনাদায়ী ঋণের এই লাগামহীন বিস্তার ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তিকে সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের অন্তত পনেরোটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিজস্ব মূলধন ঋণাত্মক স্তরে নেমে গেছে। পুরো ব্যাংকিং খাতের সার্বিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার বা সিএআর এখন ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। একটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিতে পড়া মানে হলো তার নতুন করে ঋণ বিতরণ করার সক্ষমতা পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাওয়া। নতুন উদ্যোক্তা ও লাভজনক খাতে ঋণ দিতে না পারায় ব্যাংকগুলোর আয়ের নতুন কোনো ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না, যার ফলে পুরোনো ঋণের সুদ মওকুফ আর অনাদায়ের ভারে প্রতিষ্ঠানগুলো দিনে দিনে আরও বেশি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই মারাত্মক অচলাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন তিন স্তরের একটি বিস্তৃত পুনরুদ্ধার রূপরেখা গ্রহণ করেছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তাদের শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে প্রতি তিন মাস পর পর বিশেষ পর্যালোচনা সভার আয়োজন শুরু হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মাসিক সভায় শীর্ষ বিশজন ঋণখেলাপির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মধ্যমেয়াদে আন্তর্জাতিক হিসাবমান বা আইএফআরএস-৯ পুরোপুরি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঋণ ক্ষতির পূর্বাভাস মূল্যায়ন করে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভালো গ্রাহকদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যাতে সৎ ব্যবসায়ীরা সময়মতো কিস্তি পরিশোধে আগ্রহী হন। আর দীর্ঘমেয়াদে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, ১ হাজার কোটি টাকার বেশি একক বড় ঋণের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে পারপেচুয়াল বন্ড ছেড়ে তহবিল সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতে স্বাধীন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা এএমসি গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
ঋণ আদায়ের এই লড়াইকে আইনি শক্তিতে বলীয়ান করতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের আমূল সংস্কার নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, যার খসড়া পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থঋণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি ফাঁকফোকর দূর করে সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও খেলাপি হয়ে পড়া বন্ধকী সম্পত্তি ও অচল কারখানা দ্রুত অধিগ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘ডিসট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সংগতি রেখে দেউলিয়া হওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়ভার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হালনাগাদ করা হচ্ছে ১৯৯৭ সালের পুরোনো ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্টসি অ্যাক্ট’। এই আইনি সংস্কারগুলো সম্পন্ন হলে অসাধু ঋণগ্রহীতাদের পক্ষে আদালতের স্থগিতাদেশের আড়ালে বছরের পর বছর ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
আইন সংস্কারের সমান্তরালে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতকে সচল করতে নীতিগত সহায়তা ও ব্যাংক রেজুলেশনের বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনশীল প্রায় তিন শতাধিক শিল্প গ্রুপের সমস্যাগ্রস্ত ব্যবসা পুনর্গঠনের জন্য ৫২টি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তীব্র তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় বিশেষ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ এর অধীনে ওই পাঁচটি ব্যাংকের সমুদয় সম্পদ ও দায়ভার নতুন গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র কাছে হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমানত সুরক্ষার আইনি সীমা দ্বিগুণ করে ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ‘ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি’ বা রিস্ক বেসড সুপারভিশন (আরবিএস), যার মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ দেওয়ার মান যাচাই করে নিয়মিত ঝুঁকি রেটিং প্রকাশ করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক মেরুদণ্ড শক্ত করতে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মূলধন বাড়াতে কিংবা অন্য ব্যাংকের সাথে একীভূত হতে বাধ্য করছে। নীতিগত এসব ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে বাজারে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির লক্ষণও দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খেলাপি ঋণের সামগ্রিক হার কিছুটা কমেছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার ১০ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রাবাজারে তীব্র চাপ কাটিয়ে আন্তঃব্যাংক কলমানি রেট ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে নেমে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায়, যা প্রমাণ করে যে সামগ্রিক ব্যবস্থায় তারল্যের বড় কোনো সংকট নেই।
তবে এই সাময়িক ইতিবাচক সূচকগুলো দিয়ে ব্যাংকিং খাতের মূল সংকটের গভীরতাকে আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই। খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য মূলত কিছু হাতেগোনা ভালো ব্যাংকের কাছে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে, অন্যদিকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখনো চরম নাজুক। গত তিন মাসেই ব্যাংকগুলোতে নতুন করে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। মূলধন শূন্যতায় ভোগা ডুবন্ত ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে এখন পর্যন্ত ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকারও বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা বা স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট দিতে হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারসাম্যের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কিছু কাগুজে আইন প্রণয়ন বা নীতি সহায়তার সময়সীমা বাড়িয়ে এই ঐতিহাসিক ক্ষত নিরাময় করা সম্ভব নয়। বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেই ইচ্ছাকৃত শীর্ষ ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে অর্থ উদ্ধার করা না গেলে ব্যাংকিং খাত দীর্ঘমেয়াদে লাভের মুখ দেখবে না। প্রস্তাবিত চারটি আইন কত দ্রুত জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কতটা কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে ছয় লাখ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক অন্ধকার কাটিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাত আবার কবে স্বাভাবিক ও টেকসই মুনাফার ধারায় ফিরতে পারবে।
তথ্যসূত্র: নয়া দিগন্ত