রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। চলমান কাজের অগ্রগতি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেছেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে ক্রিটিক্যালিটির ‘সি’ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র সাপেক্ষে এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমরা ২০ শতাংশ থার্মাল পাওয়ারে পৌঁছাতে পেরেছি। থার্মাল পাওয়ার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে ওই বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে।
টারবাইন ঘুরলে জেনারেটরও ঘুরবে। সেখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয় বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও সেফটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে কোনো যন্ত্রাংশ বারবার পরীক্ষা ও মেরামত করে নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে থার্মাল পাওয়ার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নিয়ে টারবাইন ঘোরাতে পারব বলে আশা করছি। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অনেক সূক্ষ্ম কারিগরি বিষয় জড়িত। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা না বেঁধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ’
এ প্রসঙ্গে তিনি একটি পিইউআরবি ভালভের কাজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওই ভালভ-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সফল সমাধান হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের প্রতিনিধি, প্রায় ৪৯ জন রুশ বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশের স্থানীয় বিজ্ঞানী, প্রকল্প পরিচালক (পিডি), ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) পুরো দল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে তা ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। মাঠপর্যায়ের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে থার্মাল পাওয়ার ৩ হাজারের বেশি পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে। যেভাবে কাজ এগোচ্ছে, আল্লাহ চাইলে খুব দ্রুতই আমরা জাতিকে বিদ্যুৎ উপহার দিতে সক্ষম হবো। ’