দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ এতই বেশি যে, বারান্দা, সিঁড়ি এমনকি শৌচাগারের পাশে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত মানুষকে। ‘হেলথ বুলেটিন ২০২৩’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যা রয়েছে মাত্র ৭১,৯০০টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তির হার উদ্বেগজনক। বিশেষায়িত ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় ১৭৬.১% রোগী ভর্তি থাকে। জেলা বা জেনারেল হাসপাতালগুলোতে এই হার ১৭৫.৩% এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১১১%। ফলে সিংহভাগ মানুষ চিকিৎসার জন্য ব্যয়বহুল বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে, যেখানে দেশের ৫৯% শয্যা বিদ্যমান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গ্লোবাল হেলথ অবজারভেটরি অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে বাংলাদেশে শয্যার সংখ্যা মাত্র ৯.২টি। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। মালদ্বীপে এই সংখ্যা ৪৬.৬টি, শ্রীলঙ্কায় ৩৫.৩টি এবং ভুটানে ২৩.৬টি। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই সংখ্যা ১৫.৯টি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা অনেক বাড়াতে হবে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন।