যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করতে ইরানের কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—এমন খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নির্ভরযোগ্য এক সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে ইরানের আলোচক দলের ইসলামাবাদ পৌঁছানোর খবর দেওয়া হলেও তা সত্য নয়। সূত্রটি জোর দিয়ে বলেছে, “যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পূরণ না করবে এবং ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখবে, ততক্ষণ আলোচনা স্থগিত থাকবে।” অর্থাৎ, তেহরান আলোচনার টেবিলে বসার আগে লেবানন ইস্যুতে বাস্তব অগ্রগতি চাইছে।
তাসনিম নিউজের দাবির বিপরীতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রতিনিধি দলের যে তালিকা আলোচিত হচ্ছে:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল: নেতৃত্বে থাকতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এছাড়াও প্রতিনিধি দলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধি দল (সম্ভাব্য): নেতৃত্বে থাকবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সঙ্গে থাকতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান: পাকিস্তানের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিকের প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছিল যে, তারা বৈঠকের এজেন্ডা এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করছে। তবে তাসনিম নিউজের এই প্রতিবেদন তেহরানের ভেতরে চলমান কোনো নীতিগত বিরোধ বা আলোচনার আগে দরকষাকষির কৌশল হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
ইরানের ভেতরে ক্ষমতার যে রদবদল চলছে এবং শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর যে শোকের ছায়া, তার মধ্যে এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় কি না, তা জানতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।