লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে তেহরানের একটি দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এই বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বুধবার পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কথা থাকলেও লেবাননকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন, যাতে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর ইরান শর্ত দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এই শর্ত না মানায় ইরান মার্কিনিদের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কেবল গাজা বা লোহিত সাগর নয়, বরং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের জন্য কার্যকর হতে হবে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান বর্তমানে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।