বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

‘স্মার্ট কৃষি’ নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

কৃষক কার্ডের সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এ কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০টি ভিন্ন ধরনের সেবা পাবেন। সেবাগুলো হলো:

১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

২. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান

৩. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ

৪. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা

৫. সহজ শর্তে কৃষি ঋণ

৬. কৃষি বীমা সুবিধা

৭. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা

৮. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

৯. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তি

১০. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ

কৃষির উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা

দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে সরকারের গৃহীত অন্যান্য পরিকল্পনাগুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:

  • উৎপাদন বৃদ্ধি ও যান্ত্রিকীকরণ: উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এজন্য ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান করে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করা হচ্ছে।

  • ‘ক্রপ জোনিং’ ও পতিত জমির ব্যবহার: জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া অনুযায়ী ফসল নির্ধারণ করা হবে। খাল খননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে সিলেটসহ চরাঞ্চলের পতিত জমি আবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ: শুধু ধান নয়; ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষ সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • প্রণোদনা ও পুনর্বাসন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে ভর্তুকি দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বল্প সুদে কৃষিঋণ ও ফসল বীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা’ খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ বাবদ ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে, যাতে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

  • সংরক্ষণ ও রপ্তানি: কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • গবেষণা ও উদ্ভাবন: বারি, ব্রি এবং বিনা-র মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অধিক ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং জলবায়ু সহনশীল নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবনে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেচের অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (AWD) পদ্ধতি প্রয়োগ করে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো এবং ‘খামারি অ্যাপস’-এর মাধ্যমে উপকরণগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর...