শিরোনামঃ
আমাদের ১০টি কমন স্বভাব টাকা ছাপিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংককে ঋণ দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাবিতে নেকাব পরা শিক্ষার্থীকে অপমান ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত ঘোষণা করল বিজেপি সরকার মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর দীর্ঘ বৈঠক, তারেক রহমানের সফর নিয়ে আলোচনা ১২ ডিসেম্বরের আগেই নবায়ন হবে গঙ্গা চুক্তি: পানিসম্পদমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেবে সরকার: রিজভী দুর্নীতি করে শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার: মাহদী আমিন ভিসা সহজীকরণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি জোরদারে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাহ্দী আমিনের বৈঠক কূটনীতির মাধ্যমেই পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

মিড ডে মিল: সরকারের ভালো উদ্যোগ ভেস্তে দিচ্ছে ঠিকাদারদের অর্থলোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮৮ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধের মহৎ উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্প এখন শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ঠিকাদার কোমলমতি শিশুদের মুখে তুলে দিচ্ছেন বাসি ডিম ও পচা কলা। এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে মাদারীপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দেশজুড়ে এমন অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নড়েচড়ে বসেছেন। ইতিমধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে এবং দেশব্যাপী জোরদার তদারকি শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মাদারীপুরে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে বেশ কয়েকজন শিশু অসুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সেখানে সরবরাহকৃত খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় জেলা প্রশাসক নিজে একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া ডিপিই থেকেও ওই ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুরের পাশাপাশি রংপুর বিভাগের কয়েকটি স্কুলেও একই ধরনের সমস্যার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিন দিন একটি করে সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। কিন্তু অসাধু ঠিকাদাররা অনেক সময় আগের রাতেই ডিম সেদ্ধ করে রাখেন, যা পরদিন স্কুলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে নষ্ট হয়ে যায় বা অর্ধসেদ্ধ থেকে যায়। আবার অনেক ডিমের গায়ে মুরগির বিষ্ঠা লেগে থাকতে দেখা যায়, যা অপরিষ্কার হাতেই শিশুরা খেয়ে জীবাণু সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। একইভাবে পরিবহনের সময় নষ্ট হওয়া পচা কলাও শিশুদের দেওয়া হচ্ছে। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিশুরা বমি, পাতলা পায়খানাসহ নানা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ডিপিই সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় এই মেগা প্রকল্প চলছে। ১৯ হাজার ৪১৯টি স্কুলের প্রায় ২৯ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটির ইতিবাচক দিক হলো, মিড ডে মিল চালুর পর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ছে; যেমন রাজশাহী বিভাগের ১২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর হার ৫.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিনের এই খাদ্য তালিকায় ডিম, কলা, ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি এবং পাস্তুরিত তরল দুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সারা দেশে একাধিক ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ডিপিইর প্রকল্প কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন আর রশীদ জানান, শিশুদের মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। খাবারের মান ঠিক রাখতে দূর থেকে সেদ্ধ ডিম বা পাকা কলা পরিবহন না করে স্থানীয়ভাবে স্কুল বা অভিভাবকদের মাধ্যমে তা গরম অবস্থায় সংগ্রহের ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে শিশুদের বিরত রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, গত শনিবার নরসিংদীর বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের দেওয়া রুটিতে দুর্গন্ধ পান এবং খাবারের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে দুটি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের খাবারে কোনো ধরনের ত্রুটি বা দুর্নীতি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কার্যাদেশ বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।


এ জাতীয় আরো খবর...