শিরোনামঃ
দক্ষিণ এশিয়ার ‘ল্যান্ড ব্রিজ’ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ মান্দায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে জমি দখলের অভিযোগ: চরম ভোগান্তিতে কৃষক ও এলাকাবাসী থানকুনি পাতা: ১০টি জাদুকরী ভেষজ গুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা ইরানে অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়কালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত ঢাকা বার নির্বাচন: নিরঙ্কুশ আধিপত্যে সব পদে জয়ী বিএনপিপন্থি ‘নীল প্যানেল’ রিয়ালে ফেরার গুঞ্জনে মুখ খুললেন মরিনহো ‘আহারে ব্রো, লাইফটাই স্পয়েল হয়ে গেল!’: আসিফ মাহমুদকে নীলার কটাক্ষ জেল থেকে ফিরে সিদ্দিকুর রহমানের নতুন জীবনের বার্তা তেহরানকে দমাতে পেন্টাগনের নতুন ছক: মাঠে নামছে ভয়ংকর ‘ডার্ক ঈগল’ ‘ইরান চুক্তি চায়, তবে আমি সন্তুষ্ট নই’—ট্রাম্প; অন্যদিকে হুমকি বন্ধের শর্তে কূটনীতিতে আগ্রহী তেহরান
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

জামায়াতের সাদিক না জোটের আসিফ: ঢাকা দক্ষিণে রাজনীতির নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২০ বার
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন রীতিমতো সরগরম। লড়াইটা এখন আর কেবল ভোটের মাঠে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে এক জটিল কৌশলগত স্নায়ুযুদ্ধে। একদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার গুঞ্জন, অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম জোরালোভাবে সামনে আসা—সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণের হিসাবনিকাশ ক্রমশই কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে উঠছে।

সাদিক কায়েমকে ঘিরে জামায়াত-শিবিরের ‘দ্বিমত’ ও রহস্য

গত শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকেই হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেনের ফেসবুক পোস্ট এই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে। এমনকি সাদিক কায়েম তার নিজ এলাকা খাগড়াছড়ি থেকে ভোটার এলাকা ঢাকায় স্থানান্তর করেছেন, যা তার নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরই। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক জরুরি বার্তায় এই খবরকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দেন। শিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংগঠনের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। যেহেতু সাদিক কায়েম বর্তমানে শিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন, তাই তাকে জামায়াতের প্রার্থী করার বিষয়টি নাকচ করে দেয় শিবির।

বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—এটি কি জামায়াত ও শিবিরের মধ্যকার কোনো অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভোটারদের পালস বোঝার কোনো বড় রাজনৈতিক রণকৌশল?

জোটের সমীকরণে শক্তিশালী প্রার্থী আসিফ মাহমুদ

মেয়র পদের এই লড়াই কেবল জামায়াতের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণে জামায়াত সমর্থন দিতে পারে এনসিপিকে। আর এই জোট থেকে মেয়র পদে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। তিনি নিজেও মেয়র পদে লড়ার বিষয়ে প্রকাশ্য ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের নেতৃত্বে সিটি নির্বাচনের কমিটিও গঠন করেছে দলটি। ফলে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, জামায়াত কি শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থী (সাদিক কায়েম) নিয়ে এগোবে, নাকি জোটের স্বার্থে সমঝতায় গিয়ে আসিফ মাহমুদকে সমর্থন দেবে?

দলীয় প্রতীক বনাম রাষ্ট্র সংস্কারের আইনি লড়াই

নির্বাচনী ময়দানের এই লড়াইটি সরাসরি ‘রাষ্ট্র সংস্কারের’ প্রশ্নেও রূপ নিয়েছে। আসিফ মাহমুদ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তার জোরালো দাবি—গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কারের রূপরেখা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকা উচিত নয়।

এই আইনি ও কাঠামোগত লড়াইটি ঢাকা দক্ষিণের ভোটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তখন প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে কোনো নির্দিষ্ট দলের পরিচয়ে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, অতীত সংগ্রাম ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে। আসিফ মাহমুদ এই দাবির মাধ্যমে মূলত ভোটারদের কাছে বার্তা দিচ্ছেন যে, তিনি গতানুগতিক প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এক নতুন ধারার ঢাকা গড়তে চান।

ভোটের মাঠে নতুন প্রজন্মের ‘পাওয়ার গেম’

ঢাকা দক্ষিণের এই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে বড় একটি অংশ আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আভাস দিচ্ছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সারজিস আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিগুলো আসিফের পক্ষে সক্রিয় হলে সমীকরণ ভিন্ন রূপ নেবে। অন্যদিকে, জামায়াত যদি সাদিক কায়েমকে নিয়ে এককভাবে এগোতে চায়, তবে লড়াইটা বহুমুখী হতে বাধ্য।

এই নির্বাচন কেবল একজন মেয়র নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি হতে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার জনসমর্থন ও সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা মজবুত, তা প্রমাণের এক অলিখিত ‘পাওয়ার গেম’। ঢাকা দক্ষিণের ভোটাররা কি প্রথাগত জোটবদ্ধ রাজনীতির সাক্ষী হবেন, নাকি নতুন প্রজন্মের একক নেতৃত্বের কোনো বড় চমক দেখবেন—তার উত্তর হয়তো মিলবে জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই।


এ জাতীয় আরো খবর...