দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
ঢাকা বিভাগ: ৫ জন
রাজশাহী বিভাগ: ২ জন
বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ: ১ জন করে (মোট ৪ জন)
অন্যান্য: ১ জন (শনাক্তকৃত রোগী)
গত একদিনে সারা দেশে নতুন করে ২৮৬ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। এর বাইরে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগের সুস্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সামগ্রিক সংক্রমণের পরিসংখ্যানটি নিচে দেওয়া হলো:
মোট উপসর্গযুক্ত রোগী: ৪৫,৪৯৮ জন
মোট ল্যাব-শনাক্ত রোগী: ৬,২০৮ জন
হাসপাতালে ভর্তি: ৩১,৯১২ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন: ২৮,২৩৮ জন
জৈষ্ঠ্য চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে এটি মহামারি রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন:
১. দ্রুত টিকাদান: যারা এখনো হামের টিকা (এমআর) নেননি, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা।
২. সচেতনতা: জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুর্গত এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। তবে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানোর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।