হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম পর্যালোচনা করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ত্রাণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে হবে এবং এই তালিকার ভিত্তিতেই আগামী তিন মাস তাদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।”
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তালিকা প্রস্তুত হওয়া মাত্রই কোনো কালক্ষেপণ না করে কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং আগাম বৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচতে ধান রোপণ ও সংগ্রহের মৌসুম কিছুটা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, হাওরাঞ্চলে অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাসব্যাপী বিশেষ সহযোগিতা কর্মসূচি চালানো হবে। আজকের এই সভাটি ছিল সেই প্রতিশ্রুতিরই দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও হাওরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং সংসদ সদস্য ড. ওসমান ফারুক, ফজলুর রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, কামরুজ্জামান কামরুল, নুরুল ইসলাম, কলিম উদ্দিন মিলন ও মোহাম্মদ কয়সর আহমদ সভায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ এলাকার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার ফলে হাওরাঞ্চলের দুস্থ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।