শিরোনামঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ: ভোটের আগে নিউইয়র্কে ‘পরীক্ষায়’ বসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মার্ট প্রযুক্তির চাদরে বাংলাদেশ সচিবালয়: এআই ক্যামেরা, ডিজিটাল পাস ও আধুনিক স্ক্যানারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নতুন যুগে প্রশাসন জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ ও জনবল সংকটে ধুঁকছে গাইবান্ধা বিগ ব্রাদার আচরণ ও অনমনীয় নীতি: ভারতকে পাশ কাটিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে আরএসএসের যে নীরব সমীকরণ দাগনভূঞায় নর্দমা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার: পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের সাভারে ফ্ল্যাটের বাথরুমে যুবকের মরদেহ গভীর রাতে ইন্টারনেটে মানুষের সার্চ প্রবণতা: কী খুঁজছেন ব্যবহারকারীরা? শ্রমিক সংকটের সুযোগে হারভেস্টার সিন্ডিকেটের লুটপাট, আড়াই গুণ ভাড়ায় দিশেহারা কৃষক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ: ভোটের আগে নিউইয়র্কে ‘পরীক্ষায়’ বসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা। এই সম্মানজনক পদের জন্য লড়াই করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। চূড়ান্ত ভোটের আগে আজ বুধবার (১৩ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক ‘পরীক্ষায়’ অবতীর্ণ হচ্ছেন দুই দেশের প্রার্থীরা।

কী থাকছে এই ‘পরীক্ষায়’?

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার এবং কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।

  • প্রেজেন্টেশন: সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলে তাদের অগ্রাধিকার কী হবে এবং তারা কী কী পদক্ষেপ নেবেন, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন প্রার্থীরা।

  • প্রশ্ন-উত্তর পর্ব: উপস্থাপনার পর ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন। প্রার্থীরা সেগুলোর সরাসরি জবাব দেবেন।

  • সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) স্বার্থ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন), ইউক্রেন যুদ্ধসহ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এই পর্বে প্রাধান্য পাবে। এছাড়া ভবিষ্যতে নতুন বৈশ্বিক সংকট তৈরি হলে সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে।

সেশনের সময়সূচি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ মে) দুটি সেশনে এই প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে:

  • সকালের সেশন: সাইপ্রাসের প্রার্থী এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস তার প্রেজেন্টেশন দেবেন।

  • বিকেলের সেশন: বাংলাদেশের প্রার্থী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তার ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ও প্রত্যাশা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রেজেন্টেশনের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফিলিস্তিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় এখন মূল লড়াই হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি প্রার্থী নির্বাচিত হলে জাতিসংঘে আমাদের অবস্থান আরও জোরদার হবে এবং এটি হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। বাংলাদেশ খুব কম সময়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে এবং আমরা আশাবাদী।”

প্রার্থী পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী বদল করা হয়েছে।

  • প্রার্থী বদল: প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে এই পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী করা হয়।

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন পুনরায় এই পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ প্রার্থিতা ঘোষণা করে। দীর্ঘ চার দশক পর বাংলাদেশ ফের এই সম্মানজনক পদে আসীন হওয়ার জন্য জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...