শিরোনামঃ
হজ পালনে সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৭৭ হাজার বাংলাদেশি হেঁটে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু: দুই মাসে প্রাণহানি ছুঁল প্রায় ৫০০ রামিসার কবর জিয়ারতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সংসদ সদস্য সুস্থ কোরবানির পশু চেনা এবং মাংস সংরক্ষণের খুঁটিনাটি চিরকূট এবং গুঞ্জন সিলেটে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, জিম্মি নাটক শেষে ঘাতক আটক চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্মম দায়ের কোপে বাবা খুন, হাত বিচ্ছিন্ন বটবাহিনীর দৌরাত্ম্য: কৃত্রিম জনমতের ফাঁদে দেশ ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী যুবক নিয়ে তোলপাড়
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলের অপরাধে ইউরোপের নীরবতা ভয়াবহ ইতিহাস ফেরাবে: ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চরমপন্থী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত আইন লঙ্ঘন ও অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে ইউরোপ যদি নিজেদের নিষ্ক্রিয়তা বজায় রাখে, তবে তাদের নাৎসি আমলের মতো ইতিহাসের নির্মম পুনরাবৃত্তির সম্মুখীন হতে হবে।

আশদোদ বন্দরের ঘটনা ও নাৎসি আমলের স্মৃতি

সম্প্রতি আশদোদ বন্দরে ‘গাজা এইড ক্যারাভান’-এর কর্মীদের (যাদের মধ্যে অনেক ইউরোপীয় নাগরিকও ছিলেন) হাতকড়া পরানো অবস্থায় ইসরায়েলের এক কট্টরপন্থী মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অপমান করেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বাঘায়ি বলেন, এই মর্মান্তিক দৃশ্যগুলো ১৯৩০-এর দশকের নাৎসি শাসনের সেই তিক্ত স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধ করেও কোনো শাস্তি না পাওয়ায় তৎকালীন নাৎসিরা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে এবং সব ধরনের জবাবদিহিতার বাইরে ভাবতে শুরু করেছিল।

পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতি ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা

ইরানি এই মুখপাত্র পশ্চিমা বিশ্বের ঘোষিত মানবাধিকারের বুলি এবং তাদের বাস্তব আচরণের মধ্যকার বিস্তর ফারাকের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তার বার্তায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:

  • ঐতিহাসিক ভ্রান্তি: গত শতকের তিরিশের দশকে ইউরোপ ভেবেছিল, আন্তর্জাতিক আইন, মানব মর্যাদা ও নৈতিকতার অবমাননার মুখে নিশ্চুপ থাকলে তাদের কোনো মাশুল দিতে হবে না। বর্তমান ইউরোপও একই ভ্রান্ত ধারণায় মগ্ন রয়েছে।

  • প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার অভাব: ইসরায়েলি পদস্থ কর্মকর্তাদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উদ্বেগজনক আচরণের মূল কারণ হলো দখলদারিত্ব, বর্ণবৈষম্য ও গণহত্যার মুখে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা।

  • অপরাধের স্বাভাবিকীকরণ: পশ্চিমা বিশ্বের এই দীর্ঘমেয়াদি নীরবতা ও পরোক্ষ সমর্থনই মূলত ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে বিশ্বের বুকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এর মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাঘায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মানবাধিকারের প্রবক্তা দাবি করা পশ্চিমা দেশগুলো যদি তাদের এই দ্বিমুখী নীতি ও নিষ্ক্রিয়তা থেকে অবিলম্বে সরে না আসে, তবে ঐতিহাসিক ভুলের চরম খেসারত তাদের আবারও দিতে হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...