গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ডব্লিউএইচও-এর তথ্যমতে, গত ২০ এপ্রিল প্রথম সন্দেহভাজন মৃত্যুর পর থেকে মাত্র এক মাসের (৩১ দিন) ব্যবধানে এই ভাইরাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই দুই দেশে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে এবং অন্তত ১৩৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। কঙ্গোতে পূর্ববর্তী ইবোলা মহামারির সমাপ্তি ঘোষণার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় নতুন করে এই সংকট দেখা দিল।
ডব্লিউএইচওর সতর্কতা ও পদক্ষেপ
বুধবার (২০ মে) জেনেভায় ডব্লিউএইচওর জরুরি কমিটির বৈঠকে মহাপরিচালক তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস জানান, বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটিকে এখনই বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এর ঝুঁকি অনেক বেশি হলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি এখনো কম বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান চিকউই ইহেকইয়াজু জানান, বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত ব্যাপ্তি নির্ধারণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংক্রমণের প্রতিটি শৃঙ্খল শনাক্ত করাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ভয়াবহ ‘বান্ডিবুগিও স্ট্রেইন’
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ‘বান্ডিবুগিও স্ট্রেইন’, যার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা নেই। ৬০০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে ৫১টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলের ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশের বাসিন্দা। সেখান থেকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় ভ্রমণ করা দুই ব্যক্তির শরীরেও ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।
ছড়ানোর কারণ ও ইউরোপের অবস্থান
কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ২০ এপ্রিল প্রথম মৃত্যুর পর কোনো জানাজা বা চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে একটি ‘সুপার-স্প্রেডার’ ঘটনার মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাব এত দ্রুত ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যে কঙ্গোতে আক্রান্ত এক মেডিকেল মিশনারিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ইউরোপে এই প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর ঝুঁকি খুবই কম; তাই সাধারণ স্বাস্থ্যবিধির বাইরে বাড়তি কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।