আমার এক ছোটো বোন আছে। নাম শর্মি। নারীদের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। উত্তর আমেরিকার একটি কোম্পানিতে এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। কয়েকদিন আগে সে আমাকে বলল- ‘দাদা, তোমার মধ্যবয়সে নারীর সংকট নিয়ে লেখাটা আমি পড়েছি। তবে আমার মনে হয়, ওই বয়সের একটি বিষয় নিয়ে তোমার আলাদাভাবে লেখা উচিত।‘
আমি জিজ্ঞেস করলাম- ‘কোন বিষয়।‘
‘মধ্যবয়সে নারীর সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যহানী। এটি নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি দুঃশ্চিন্তায় থাকে।‘
‘আমার লেখায় তো এই পয়েন্ট ছিল’- আমি বললাম।
‘ছিল- কিন্তু তাতে তুমি বলেছ মধ্যবয়সে নারীদের চেহারা ও শরীরে কিছুটা পরিবর্তন অনিবার্য এবং তার মধ্যেও আলাদা সৌন্দর্য আছে। এটা মেয়েদের জন্য সান্ত্বনা পুরস্কার ছাড়া কিছুই না। অথচ মধ্যবয়সেও নারীরা সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারে। তুমি সে ব্যাপারে বলোনি।‘
‘এ ব্যাপারে তো আমার আইডিয়া নেই।’ আমি বললাম।
‘আমার কাছ থেকে আইডিয়া ধার নাও। চল্লিশ পেরুলেও আমাকে কি তোমার সুন্দরী মনে হয় না?’ তার ঠোঁটে ফিচেল হাসি।
‘অবশ্যই মনে হয়। তাহলে তোর রূপের রহস্য বল- আমি লিখি।‘
নিচে নারীর মধ্যবয়সে সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যরক্ষার ব্যাপারে যা বলা হলো তা আমার নয়, শর্মির পরামর্শ। আমি মনে করি, দীর্ঘদিন এ বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় তার পরামর্শগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
খুব ব্যস্ত সময় যাচ্ছে, তাই না? স্বামী-সংসার-সন্তান। আর চাকরিজীবি হলে তো কথাই নেই। তবে এখন সময় হয়েছে নিজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার। কারণ স্বাভাবিকভাবেই শরীর আগের মতো সব সইতে পারবে না। কিছুটা ফ্রি সময় বের করুন। তখন নিজের যত্ন করুন।
একটা সময় প্রাকৃতিক কারণেই ত্বক চিকমিক করে। চল্লিশে এসে জেল্লা কমতে থাকে। তখন দরকার হয় ত্বকের যত্ন। নয়ত সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য দুটোই হারাতে হয়। নিয়মিত চর্চা করলে ত্বক অনেক বয়স পর্যন্ত সুন্দর থাকে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে খুব ভালো। আন্দাজে করলে ফল নাও পেতে পারেন।
৩) অতিরক্ত মেকআপ করবেন না।
মেকআপের অধিকাংশ আইটেমে কেমিক্যাল থাকে। যা ত্বকের ক্ষতি করে। তাই অতিরিক্ত মেকআপ না করাই ভালো। তাছাড়া ওভার মেকআপ সুন্দর না করে অনেক সময় ‘উৎকট’ করে তোলে।
৪) প্রার্থনা/মেডিটেশন করুন
দুটোই মনে প্রশান্তি আনে। মনের প্রশান্তি চেহারা ও শরীরে যে উজ্জ্বল আভা তৈরি করে অনবদ্য।
এ বয়সে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। অনেকেই সংসারের ঝামেলায় তা পারবেন না তা জানি- তবে চেষ্টা করবেন কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুমাতে। রাত জাগা যাবে না। চোখের নিচে কালি পড়বে, শরীর খারাপ করবে, উজ্জ্বলতা নষ্ট হবে।
যেভাবেই হোক প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটুন। এর বিকল্প নেই। তবে দলবেঁধে গল্প করতে করতে হেলেদুলে হাঁটলে খুব বেশি লাভ হবে না। সিরিয়াসলি হাঁটুন।
পর্যাপ্ত পানি খেলে ত্বক সতেজ থাকে। শরীরও ভালো থাকে। এবয়সে শরীরের ওজন ও কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত।
আনন্দের খোরাক জোগাড় করুন। মুভি দেখুন, নাটক দেখুন, গান শুনুন, বই পড়ুন, আড্ডা দিন- যার যা ভালো লাগে তাই করুন। মানসিক আনন্দ সব বয়সেই শরীরকে খুব তাজা রাখে।
আমি শর্মীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- ‘আমাদের মহিলারা সংসার নামের যে বিশাল জাহাজ সামলান তাতে কি এগুলো সম্ভব?’
সে বলল- ‘তারা যদি অপ্রয়োজনীয় কাজে কত সময় ব্যয় করছেন তা খেয়াল করেন তবে সম্ভব। তখন বেদরকারি কাজ বাদ দিয়ে নিজেকে সময় দিতে পারবেন। এই ধরো-পর্যাপ্ত পানি খেতে কি খুব বেশি সময় লাগে? রাতে টিভির সামনে বসে না থেকে ঘুমাতে যাওয়া কি অসম্ভব?’
তারপর হাসতে হাসতে বলল- ‘তোমার বউকে চিরযৌবনা রাখার এতো বুদ্ধি দিলাম- এখন আমার ফি দাও।’
হাসলে তার গালে টোল পড়ে। সেই টোলেরও আলাদা সৌন্দর্য আছে।
এ জাতীয় আরো খবর...