তারা একসাথে থাকছেন, খাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন, বেড়াচ্ছেন— কিন্তু এত কাছে থেকেও দুজনের মাঝে যোজন দূরত্ব।
এটিই স্লিপ ডিভোর্স— যে ডিভোর্স ঘুমিয়ে থাকে, বাইরে থেকে বোঝা যায় না। যে ডিভোর্স কাগজেপত্রে হয় না— মনে মনে হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে— স্লিপ ডিভোর্সের লক্ষণগুলো কী?
১) রুমমেট সিনড্রোম
দুজনের সম্পর্ক হয়ে গেছে রুমমেটের মতো। এক রুমে থেকেও যে যার কাজে ব্যস্ত। শুধু দরকারি কথা হয়। গাঢ় প্রেমের কোনো শব্দ উচ্চারিত হয় না। স্বপ্নের কথা বলা হয় না। অনুভূতির প্রকাশ হয় না।
২) ফোন ব্যারিয়ার
কথা বলতে ইচ্ছে করে না বলে দুজনেই মোবাইল ফোনে মগ্ন থাকেন।
এটি হয়ে ওঠে একে অপরকে এড়ানোর মাধ্যম।
৩) রিলিফ সিনড্রোম
একজন অনুপস্থিত থাকলে অন্যজন স্বস্তি বোধ করেন।
৪) দ্যা স্লিপিং ওয়াল
দুজনে দুপাশ ফিরে শুয়ে থাকেন। ঘুমান। বিছানা একটি— কিন্তু মাঝখানে থাকে অদৃশ্য দেয়াল। এই দেয়াল পার হওয়া যায় না।
৫) অ্যাপেথি সিনড্রোম
এখন তার উপর রাগ হয় না। তার বদলে সৃষ্টি হয় উদাসীনতা। মিষ্টি অভিমান এবং তা ভাঙানোর অপূর্ব মাধুর্য জীবন থেকে বিদায় নেয়। উদাসীনভাব দুজনকেই পাথর বানিয়ে ফেলে।
৬) পাবলিক পারফেকশন
অন্যের সামনে তাঁরা সুখী দম্পতি হিসেবে হাজির হন। উচ্ছল হাসি হাসেন, খুব কেয়ারিং কাপলের ভান করেন। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে দুজন দুজনের কাছে হয়ে যান অপরিচিত আগন্তুক।
কারো সাথে যদি লক্ষণগুলো মিলে যায়— তবে পরামর্শ একটিই। তা হলো— নিজেদের মধ্যে আলাপ করুন। আবিষ্কার করুন এ দূরত্বের কারণ কী?
দেখবেন— প্রথমে সমস্ত অভিযোগ বোমার মতো বিস্ফোরিত হবে— তারপর স্থির টলোমলো একটি দীঘি তৈরি হবে। সে দীঘিতে হারিয়ে যাওয়া একটি ফুল আবার ফুটবে।
আল মাহমুদের সোনালী কাবিন কবিতাটি পড়েছেন?
‘বধূবরণের নামে দাঁড়িয়েছে মহামাতৃকূল
গাঙের ঢেউয়ের মতো বলো কন্যা কবুল, কবুল।’
একদিন না পরম ভালোবাসায় আপনারা কবুল বলেছিলেন?
কবুল অনেক বড় প্রতিশ্রুতি।
এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হয়।
পাদটীকা: Sleep divorce— এর প্রকৃত অর্থ ভালো ঘুম নিশ্চিত করার জন্য আলাদা ঘুমানো। আমার লেখায় “ঘুমন্ত বিচ্ছেদ”-কে রূপক অর্থে স্লিপ ডিভোর্স বলা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...