শিরোনামঃ
বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা পাবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালিজম’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ চিকিৎসক নাসিরের ওপর হামলার প্রতিবাদ: কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে পাবনায় চিকিৎসকদের মানববন্ধন মসজিদে মানত দিতে গিয়ে অপহৃত তরুণ-তরুণী: ২৪ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে উদ্ধার, পালাল দুর্বৃত্তরা গবেষণাধর্মী ও সবুজ ক্যাম্পাসের প্রত্যয়ে পাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ড. শামীম স্লিপ ডিভোর্স নোটিশ ছাড়াই ফোনে ডাক: ডিসি নিয়োগের ফিটলিস্ট ঘিরে প্রশাসনে তোলপাড় সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ সব বাধা কাটল আইভীর: ১২ মামলাতেই জামিন বহাল, শিগগিরই কারামুক্তি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি: দক্ষিণ কোরিয়ায় আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় চরম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের চরম ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, “চার মাসে মেঘনা উপজেলায় চারটি খুন হয়েছে। একটি উপজেলায় চার মাসে যদি চারটি খুন হয়, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে কী করেন?” রবিবার (১৭ মে) মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এনসিপির এক বিশাল পদযাত্রা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্য স্থানীয় জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার দীর্ঘ ও আবেগময়ী বক্তৃতায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হচ্ছে, এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা যেভাবে তলানিতে ঠেকছে, কিছুদিনের মধ্যে সেই আস্থা আর থাকবে না।” একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই মৌলিক দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে, তখন সরকারের নীতিনির্ধারকদের আশ্বাসের বাণী নিছক পরিহাস বলে মনে হচ্ছে। জনগণের এই আস্থার সংকট অচিরেই রাজনৈতিক বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

মেঘনা উপজেলার সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচিত করেন। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে একটি ছোট উপজেলায় চারটি চাঞ্চল্যকর ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মানুষ যখন বলছে এই সরকারের অনেক গুণ, তখন বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই খুনগুলো কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অযোগ্যতা ও ব্যর্থতারই চূড়ান্ত প্রমাণ। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে না পারার যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা সমাজকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং সাধারণ মানুষের মনে চরম আস্থাহীনতার জন্ম দিচ্ছে।

বক্তৃতার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ অংশটি বরাদ্দ ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর প্রতি। হাসনাত আব্দুল্লাহ অত্যন্ত শ্লেষের সঙ্গে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নিজের মন্ত্রণালয়ের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার বদলে অন্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভূমিকা পালনে বেশি ব্যস্ত। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে, কখনও অর্থমন্ত্রীর পক্ষে কথা বলেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয় নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই।” দেশের আনাচে-কানাচে যখন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে, সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরছে, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধানের চেয়ে রাজনৈতিক বয়ান তৈরিতে ব্যস্ত থাকা একজন মন্ত্রী জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে তার চরম হতাশাজনক প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে করেন এনসিপির এই তরুণ নেতা। এর বিপরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাধারণ মানুষের নতুন ভরসার স্থল হয়ে উঠছে, মেঘনার এই বিশাল সমাবেশ তারই প্রমাণ। অনুষ্ঠানে মেঘনা উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক এম কে রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ। তাদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিমহড়ায় পরিণত হয়, যেখানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরকারের প্রতি মানুষের এই তীব্র মোহভঙ্গ এবং এনসিপির প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রমাণ পাওয়া যায় সমাবেশের শেষভাগে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল থেকে আসা প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান করেন। প্রধান অতিথি হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সদ্য যোগদানকারী এই নেতাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। কুমিল্লার মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলায় অন্য দল ছেড়ে এনসিপিতে যোগদানের এই ঢল প্রমাণ করে যে, দলটির তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ও জননিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বজ্রকণ্ঠ আগামী দিনে সরকারের জন্য এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


এ জাতীয় আরো খবর...