শিরোনামঃ
বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা পাবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালিজম’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ চিকিৎসক নাসিরের ওপর হামলার প্রতিবাদ: কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে পাবনায় চিকিৎসকদের মানববন্ধন মসজিদে মানত দিতে গিয়ে অপহৃত তরুণ-তরুণী: ২৪ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে উদ্ধার, পালাল দুর্বৃত্তরা গবেষণাধর্মী ও সবুজ ক্যাম্পাসের প্রত্যয়ে পাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ড. শামীম স্লিপ ডিভোর্স নোটিশ ছাড়াই ফোনে ডাক: ডিসি নিয়োগের ফিটলিস্ট ঘিরে প্রশাসনে তোলপাড় সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ সব বাধা কাটল আইভীর: ১২ মামলাতেই জামিন বহাল, শিগগিরই কারামুক্তি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি: দক্ষিণ কোরিয়ায় আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

বাবুনগরীর দোয়া নিয়ে জামায়াত-জোটের ব্যাখ্যা দিলেন মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইসলামি দলগুলোর সাম্প্রতিক উত্থানের মাঝেই দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। রোববার (১৭ মে) অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতে তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইসলামপন্থিদের বৃহত্তর ঐক্য এবং সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুজবের জবাব দিয়ে হেফাজত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, “আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে, আমরা এক। হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোনো ধরনের বিভক্তি নেই।”

সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক তার দল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য সমমনা দলগুলোকে নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আদর্শিক অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের আকিদা, বিশ্বাস ও চিন্তাগত যে মৌলিক মতপার্থক্য অতীতে ছিল, তা স্ব স্ব অবস্থানে এখনো বহাল রয়েছে। মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের এই রাজনৈতিক সমন্বয় কোনোভাবেই আকিদাগত বা আদর্শিক ঐক্য নয়; বরং এটি বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঐক্য। জোটে এমন কিছু দলও রয়েছে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সরাসরি ভিন্নমত পোষণ করে। তা সত্ত্বেও, কেবল বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতির বৃহত্তর প্রয়োজনেই এই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত এই ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জোট এবং অন্যান্য ইসলামপন্থি দলগুলো অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে, যেখানে তারা ৭২টির মতো আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের স্থায়িত্ব এবং দলগুলোর মধ্যকার আদর্শিক ভিন্নতা নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল, ঠিক তখনই মামুনুল হকের এই প্রকাশ্য ব্যাখ্যা এবং হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মামুনুল হক। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, হেফাজতে ইসলাম তার পূর্বসূরিদের আদর্শ অনুসরণ করে সম্পূর্ণ কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবেই পরিচালিত হবে। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে এবং ইসলামের ওপর যেকোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আঘাতের বিরুদ্ধে সংগঠনটি অতীতের মতোই অবিচল ও দৃঢ়তার সঙ্গে মাঠে ভূমিকা রাখবে। সাক্ষাতকালে শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিবাহী ও ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’ থেকে প্রকাশিত শহীদদের জীবনীভিত্তিক স্মারকগ্রন্থ ‘শহীদনামা’ হাদিয়া হিসেবে হেফাজত আমিরের হাতে তুলে দেন মামুনুল হক। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই পরিবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জসিমউদ্দীন, মাওলানা আলী উসমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ।


এ জাতীয় আরো খবর...