শিরোনামঃ
হজ পালনে সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৭৭ হাজার বাংলাদেশি হেঁটে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু: দুই মাসে প্রাণহানি ছুঁল প্রায় ৫০০ রামিসার কবর জিয়ারতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সংসদ সদস্য সুস্থ কোরবানির পশু চেনা এবং মাংস সংরক্ষণের খুঁটিনাটি চিরকূট এবং গুঞ্জন সিলেটে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, জিম্মি নাটক শেষে ঘাতক আটক চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্মম দায়ের কোপে বাবা খুন, হাত বিচ্ছিন্ন বটবাহিনীর দৌরাত্ম্য: কৃত্রিম জনমতের ফাঁদে দেশ ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী যুবক নিয়ে তোলপাড়
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

পশ্চিমবঙ্গে গরু-মহিষ জবাইয়ে বিধিনিষেধ বহাল: কোরবানির আগে ব্যবসায়ীদের বড় ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গে গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এর ফলে রাজ্যটিতে এবার ঈদে গরু ও মহিষ কোরবানি কার্যত বন্ধের মুখে পড়ল। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় পশু ও মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য—যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হিন্দু ব্যবসায়ী রয়েছেন—একটি বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হাইকোর্টের রায় ও পর্যবেক্ষণ

গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা একটি নোটিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সেই আপিল খারিজ করে দেন।

আপিল খারিজ করার সময় বেঞ্চ তাদের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, “গরু জবাই করা কোরবানির কোনো অপরিহার্য অংশ নয়। অন্য পশু দিয়েও কোরবানি দেওয়া সম্ভব।”

বিধিনিষেধ ও নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে

রাজ্য সরকারের ওই নির্দেশনায় মূলত ১৯৫০ সালের প্রাণী জবাই আইন এবং ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মানতে হবে:

  • ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক: অনুমতি বা ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পৌরসভার প্রধান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এই সার্টিফিকেট দেবেন এবং এতে অবশ্যই সরকারি ভেটেরিনারি (প্রাণিচিকিৎসক) কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে।

  • বয়স ও সক্ষমতার শর্ত: জবাইয়ের অনুমতি নিতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে, পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং এর কর্মক্ষমতা ও প্রজনন ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিষয়গুলো লিখিতভাবে উল্লেখ করে তবেই ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।

  • বিশেষ ছাড়: তবে ১৪ বছরের কম বয়সী পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রয়েছে। কোনো পশু যদি চলাফেরা করতে অক্ষম হয়, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অঙ্গবিকৃতি ঘটে অথবা কোনো অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়, তবেই সার্টিফিকেট নিয়ে ১৪ বছর হওয়ার আগে তা জবাই করা যাবে।

কসাইখানা স্থানান্তর ও শাস্তির বিধান

নির্দেশনায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে রাস্তার ধারের সব কসাইখানা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যত্রতত্র নয়, বরং কেবল পৌরসভা অথবা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত কসাইখানাতেই গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে।

এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে পশু জবাই করেন, তবে ১৯৫০ সালের আইন অনুযায়ী তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা হতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর...