পাবনার ঈশ্বরদীতে চার বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত রাহাত প্রামাণিককে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার (রোকন) শ্বশুর বলে জানা গেছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাহাত প্রামাণিক উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি গ্রামের পীরু প্রামাণিকের ছেলে এবং স্থানীয় জামায়াত সদস্য তুষার হোসেনের শ্বশুর। ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িও একই এলাকায়।
শনিবার দুপুরে শিশুটি প্রতিদিনের মতোই নিজের বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসময় সবার অগোচরে অভিযুক্ত রাহাত প্রামাণিক শিশুটিকে কৌশলে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটির স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় শিশুটি ভয়ে চিৎকার শুরু করলে তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস পপিসহ আশপাশের মানুষ বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত রাহাত প্রামাণিক তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবার অভিযোগ, ঘটনার পর মেয়েকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর আইনি সহায়তার জন্য ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযুক্তের জামাতা, জামায়াতের (রোকন) সদস্য তুষার হোসেন তাদের নানাভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখান।
হুমকির কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। শিশুর বাবা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুটির বক্তব্য শুনে এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাহাত প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৪ মে) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”