শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে ইরানের সম্মতি, চুক্তির সম্ভাবনা আতাউর রহমানের স্মরণসভায় আবুল হায়াতের আক্ষেপ সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা গরু চেনার উপায় চুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে ‘বড় সংঘাতের’ হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টাঙ্গাইলে রডবাহী ট্রাক খাদে উল্টে নিহত পনেরো যাত্রী টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজায় নেই কোরবানির ঈদ চাঁদপুরে আকস্মিক ঝড়ের কবলে যাত্রীবাহী লঞ্চ আহত অর্ধশতাধিক গরু কোরবানির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের বিক্ষোভ শিশু রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল শুনানি জুনে
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

আতাউর রহমানের স্মরণসভায় আবুল হায়াতের আক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

প্রয়াত কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানের স্মরণসভায় তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা দিক তুলে ধরেছেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয়জনরা। গত ২৩ মে রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত আবেগঘন বক্তব্যে আতাউর রহমানের সঙ্গে তার কৈশোরের স্মৃতিচারণ করেন। চট্টগ্রামে পড়াশোনার সময় থেকে তাদের পরিচয় এবং একসঙ্গে নাট্যচর্চার শুরু। তিনি জানান, দেশের নাটককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সবসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন এবং আতাউর রহমানের কাছ থেকেই তিনি অভিনয়ের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। একসঙ্গে পথ চলতে গিয়ে কখনো মান-অভিমান হলেও আতাউর রহমানই সবসময় পরম স্নেহে তাকে আবার কাছে টেনে নিতেন বলে উল্লেখ করেন আবুল হায়াত।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবুল হায়াত আক্ষেপের সুরে জানান, আতাউর রহমানের জীবনের শেষ সময়টা মোটেও ভালো কাটেনি। তিনি চরম বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) ও এক অজানা আতঙ্কে ভুগতেন। তার মনে সবসময় ভয় কাজ করত যে, এই বুঝি কেউ তাকে ধরবে বা মারবে। এই ভীতির কথা উল্লেখ করে আবুল হায়াত ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, শিল্পকর্ম বা শিল্পচর্চা করা কি কোনো পাপ বা অন্যায় যে একজন গুণী শিল্পীকে এমন শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাতে হবে? ব্যক্তিজীবনে আতাউর রহমান অত্যন্ত সাধারণ ও অমায়িক মানুষ ছিলেন। তিনি শান্তিনগর বাজারে নিজে বাজার করতে খুব পছন্দ করতেন। বিদেশে গেলেও হাসিমুখে সবার জন্য কেনাকাটা করতেন। সাধারণ জীবনের পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্রনাথ ও শেক্সপিয়রের সাহিত্য নিয়ে মেতে থাকতেন এবং নাটককে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই চিন্তায় সর্বদা মগ্ন থাকতেন।

আবুল হায়াতের মতে, আতাউর রহমানের মতো গুণী মানুষের এমন সময়ে চলে যাওয়াটা নাট্যাঙ্গনের জন্য বিশাল এক ক্ষতি। তার কাছ থেকে শিল্পের আরও অনেক কিছু পাওয়ার ছিল। এই কিংবদন্তি সম্পর্কে দু-চার কথায় বলে শেষ করা অসম্ভব। তিনি যে ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে আজীবন নাট্যচর্চা করে গেছেন, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক আলোচনা ও গবেষণা হবে। বাংলা ভাষাভাষী প্রতিটি নাট্যপ্রেমী বাঙালির হৃদয়ে তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। আতাউর রহমানকে চিরকাল দেশের মানুষ সম্মানের সর্বোচ্চ স্থানে রাখবে উল্লেখ করে আবুল হায়াত তার এই আজন্ম সুহৃদকে স্যালুট জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। প্রসঙ্গত, গত ১২ মে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত এই নাট্যনির্দেশক।


এ জাতীয় আরো খবর...