শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে ইরানের সম্মতি, চুক্তির সম্ভাবনা আতাউর রহমানের স্মরণসভায় আবুল হায়াতের আক্ষেপ সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা গরু চেনার উপায় চুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে ‘বড় সংঘাতের’ হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টাঙ্গাইলে রডবাহী ট্রাক খাদে উল্টে নিহত পনেরো যাত্রী টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজায় নেই কোরবানির ঈদ চাঁদপুরে আকস্মিক ঝড়ের কবলে যাত্রীবাহী লঞ্চ আহত অর্ধশতাধিক গরু কোরবানির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের বিক্ষোভ শিশু রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল শুনানি জুনে
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা গরু চেনার উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

কোরবানির ঈদ এলেই পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে গরুকে দ্রুত মোটা দেখাতে ক্ষতিকর ইনজেকশন, হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করে থাকেন। এসব গরুর মাংস মানুষের লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

হাটে গিয়ে যেন প্রতারণার শিকার না হতে হয়, সে জন্য সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা পশু শনাক্ত করার কিছু কার্যকর উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।

১. আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে পরীক্ষা

হরমোন বা স্টেরয়েড প্রয়োগ করা গরুর শরীরে সাধারণত অতিরিক্ত পানি জমে যায়, যার ফলে তাদের অস্বাভাবিক মোটা দেখায়। এটি সহজে শনাক্ত করা যায়:

  • গরুর শরীরের মাংসল স্থানে (বিশেষ করে পিঠ বা রান) আঙুল দিয়ে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে ধরে রাখুন।

  • যদি চাপের জায়গাটি বসে যায় এবং আঙুল সরিয়ে নেওয়ার পরও কিছু সময় গর্তের মতো দাগ থেকে যায়, তবে বুঝতে হবে গরুটিকে কৃত্রিমভাবে মোটা করা হয়েছে।

  • অন্যদিকে, প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ গরুর মাংস তুলনামূলক শক্ত থাকে এবং চাপ সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথেই চামড়া আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

২. গরুর আচরণ পর্যবেক্ষণ

ওষুধ প্রয়োগ করে মোটা করা পশুগুলোর লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে তারা শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল থাকে। দূর থেকে এদের আচরণ খেয়াল করলেই বিষয়টি ধরা পড়ে:

  • কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরু নিস্তেজ থাকে, হাঁটাহাঁটি করতে অনীহা দেখায় এবং সামান্য নড়াচড়াতেই হাঁপিয়ে ওঠে। এরা অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এদের চোখ ঘোলাটে বা ক্লান্ত দেখায়।

  • সুস্থ ও স্বাভাবিক গরু সবসময় সচল ও সতর্ক থাকে। আশপাশে মানুষ দেখলে এরা কান ও লেজ নেড়ে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং চটপটে আচরণ করে।

৩. শারীরিক গঠন ও লালা পরীক্ষা

ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশনের প্রভাবে গরুর শরীরে বেশ কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে, যা বাইরে থেকেই বোঝা সম্ভব:

  • কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং চামড়া অতিরিক্ত টানটান দেখায়।

  • এদের উরু, রান, থুতনি কিংবা প্রস্রাবের পথের আশপাশের অংশ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফোলা মনে হয়।

  • অনেক ক্ষেত্রে এসব অসুস্থ গরুর মুখ দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হতে দেখা যায়।

সুস্থ ও অসুস্থ গরুর তুলনামূলক চিত্র

বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ গরু কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরু
মাংসের ধরন চাপ দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে গর্ত হয়ে বসে থাকে
আচরণ সচল, চটপটে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থায় সতর্ক নিস্তেজ, ঝিম মেরে থাকে এবং সহজে হাঁপিয়ে যায়
চোখ ও মুখ চোখ স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল দেখায় চোখ ঘোলাটে দেখায় এবং মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়ে
শারীরিক গঠন গঠন সুঠাম এবং চামড়া স্বাভাবিক থাকে থুতনি, রান ও উরু অস্বাভাবিক ফোলা এবং চামড়া টানটান থাকে

ক্রেতাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

  • প্রথমবার কোরবানির পশু কিনতে গেলে অবশ্যই অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নিয়ে হাটে যান।

  • হাটে গিয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। দরদামের আগে অন্তত ১০-১৫ মিনিট গরুর হাঁটাচলা ও আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

  • খুব বেশি চকচকে বা অস্বাভাবিক মোটা গরু দেখলে সতর্ক থাকুন।

  • গরুর বয়স বোঝার জন্য দাঁত এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে চোখ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন।

  • সম্ভব হলে পরিচিত খামারি বা বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকেই পশু কেনার চেষ্টা করুন।


এ জাতীয় আরো খবর...