শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের অবহেলায় মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

আধুনিক সভ্যতায় মানুষের জীবনযাত্রার মান ও চাকচিক্য যতই উন্নত হোক না কেন, অনেক ক্ষেত্রেই মানবিক মূল্যবোধের যে চরম অবক্ষয় ঘটছে, তার এক ভয়ংকর ও বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে। সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজের সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মাকে যেভাবে অবহেলা, অযত্ন আর নিঃসঙ্গতার মাঝে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে, তা শুধু অমানবিকই নয়, বরং আমাদের বর্তমান সামাজিক কাঠামোর এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। একটি স্যাঁতসেঁতে, দুর্গন্ধযুক্ত এবং আবর্জনায় ভরা বদ্ধ ঘরে নূরজাহান বেগম নামের পঁচাত্তর বছর বয়সী ওই প্রবীণ নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য এটিই প্রমাণ করে যে, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা বড় সরকারি পদবি মানুষকে প্রকৃত অর্থে মানবিক করে তুলতে পারে না। এই জঘন্য ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বয়স্ক বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের আইনি, সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের বিষয়টি নিয়ে।

ঘটনার কেন্দ্রস্থল মিরপুরের ছয় নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রত্যক্ষ বিবরণ অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটের ভেতরের পরিবেশ ছিল সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ঘরের মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে ভাবের কারণে জন্মেছিল ছত্রাক, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ময়লা-আবর্জনা এবং পুরো ফ্ল্যাট থেকে তীব্র উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। গত রোববার খবর পেয়ে যখন ওই বাসা থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন তা এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে পুলিশের সদস্যদের পক্ষেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়েছিল। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বাসির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিহত প্রবীণ নারীর শরীরে এরই মধ্যে মারাত্মকভাবে পচন ধরে গিয়েছিল এবং বিশেষ করে তার পিঠ ও চোখে পোকা বা লার্ভা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এটি স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, ওই নারীর মৃত্যু একদিন বা দুইদিন আগে হয়নি, বরং বেশ কয়েকদিন আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের ও গা শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, একই ফ্ল্যাটে বসবাস করা সত্ত্বেও তার মৃত্যু সম্পর্কে কেউ কিছুই জানতে পারেনি বা জানার চেষ্টাও করেনি। ঘটনার দিন মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বৃদ্ধার মেয়ে পাশের একটি স্থানীয় ক্লিনিক থেকে দুজন নার্সকে বাসায় ডেকে আনেন। নার্সরা ঘরে প্রবেশ করে বৃদ্ধাকে এমন বীভৎস মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

এই ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর, লজ্জাজনক ও হতাশাজনক দিকটি হলো নিহত বৃদ্ধার সন্তানদের সামাজিক ও পেশাগত উচ্চ অবস্থান। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নূরজাহান বেগমের সন্তানেরা সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত জায়গায় আসীন। তার ছেলেদের মধ্যে একজন বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, আর অন্য ছেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন সম্মানিত শিক্ষক। এছাড়া নিহতের চল্লিশোর্ধ্ব এক মেয়ে রয়েছেন, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। মূল ঘটনাটি ঘটেছে ওই স্কুলশিক্ষক মেয়ের বাসাতেই। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে, ওই মেয়ের স্বামীও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছিলেন, যিনি কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের সংসারে কোনো সন্তানাদি নেই, ফলে ফ্ল্যাটটিতে কেবল মা ও মেয়েই বসবাস করতেন। স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করলেও মা-মেয়ে দুজনেই ছিলেন চরম অন্তর্মুখী ও সমাজবিচ্ছিন্ন। তারা কখনোই অন্য আবাসিকদের সাথে খুব একটা মিশতেন না, কথা বলতেন না এবং কেউ কোনো দরকারে তাদের বাসায় গেলে বা দরজায় কড়া নাড়লেও তারা সাধারণত ভেতর থেকে দরজা খুলতেন না। মায়ের মৃত্যুর পরও মেয়ের এমন নির্লিপ্ততা ও পুলিশকে দেওয়া অসংলগ্ন কথাবার্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মনে গভীর সন্দেহ জাগিয়েছে। পল্লবী থানার ওসি জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়ের কথাবার্তায় যথেষ্ট অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে, যা তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তা না হলে মায়ের লাশে পচন ধরার তীব্র দুর্গন্ধ কেন তিনি পেলেন না বা এত দিন কেন তিনি মায়ের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখেননি, সেটি এক বিরাট রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নোংরা ঘরের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে সমালোচনার তীব্র ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই অমানবিক ঘটনার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছেন। অনেকেই ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তুলছেন, উচ্চশিক্ষিত হয়েও সন্তানেরা কেন তাদের গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি এমন নিষ্ঠুর অবহেলা প্রদর্শন করলেন। সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মাকে এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে না হয়। এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে সরকারি আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে ওই কর্মকর্তাকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সংযুক্ত করেছে। অন্যদিকে, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মর্মান্তিক এই মৃত্যুর শিকার নূরজাহান বেগমের মরদেহ তার বুয়েট শিক্ষক ছেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসাথে, এই ঘটনায় চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেছেন। রিটে তিনি মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটির একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চেয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের আইনে বয়স্ক বাবা-মায়ের অধিকার ও দেখভালের বিষয়ে ঠিক কী বলা আছে? আমাদের চিরায়ত সমাজ ও সংস্কৃতিতে সাধারণত ছেলেরাই বা মেয়েরাই বাবা-মায়ের শেষ বয়সের পরম আশ্রয়স্থল হয়ে থাকেন। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে নগরায়ণের প্রভাবে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে যাওয়ায় এবং মানুষের মাঝে আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা ও ব্যক্তিস্বার্থ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বাবা-মা শেষ বয়সে এসে চরম একাকীত্ব ও অসহায়ত্বের শিকার হচ্ছেন। এই রূঢ় বাস্তবতাকে অনুধাবন করেই বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ নামে একটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রতিটি সামর্থ্যবান সন্তান তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ অর্থাৎ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং আনুষঙ্গিক সেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঙ্গ নিশ্চিত করতে আইনত বাধ্য থাকবেন। যদি কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকেন, তবে তারা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পিতা-মাতার এই ভরণপোষণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন। আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সন্তানদের অবশ্যই তাদের পিতা-মাতার সাথে একই স্থানে বসবাস করতে হবে। কোনোভাবেই পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও একা থাকতে বাধ্য করা যাবে না। যদি কোনো সন্তান পেশাগত বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে অবস্থান করেন, তবে তাকে নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের খোঁজখবর নিতে হবে, দেখা-সাক্ষাৎ করতে হবে এবং তাদের জীবনধারণের জন্য নিয়মিত একটি যৌক্তিক পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। এমনকি, সন্তানদের অবর্তমানে বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে নাতি-নাতনিরা তাদের বৃদ্ধ দাদা-দাদি বা নানা-নানির দেখভাল করতে আইনত বাধ্য থাকবেন।

আইনে শাস্তির বিধানও অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট। কোনো সন্তান যদি এই আইনের শর্তগুলো লঙ্ঘন করেন বা পিতা-মাতার ভরণপোষণ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা অনূর্ধ্ব তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এমনকি সন্তানের স্বামী বা স্ত্রী অথবা অন্য কোনো আত্মীয় যদি এই আইন পালনে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে তাদের ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হবে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই আইনটিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন যে, আইন থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে এর ব্যাপক প্রচার ও যথাযথ প্রয়োগের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দু-একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির স্থাপন করা যায়, তবে মিরপুরের মতো এমন মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজ থেকে অনেকটাই কমে আসবে।

পরিশেষে এটি অনুধাবন করা জরুরি যে, মিরপুরের বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের এই করুণ মৃত্যু কেবল একটি বিচ্ছিন্ন আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি আমাদের সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ নৈতিক ব্যাধির সুস্পষ্ট উপসর্গ। যে মা-বাবা নিজেদের জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে তোলেন, সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেন, তাদের শেষ জীবন যদি এমন স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধযুক্ত বদ্ধ ঘরে অবহেলায় কাটে, তবে সেই উচ্চশিক্ষার কোনো অর্থ বা মূল্য থাকে না। আমাদের সমাজকে এখনই এই চরম অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। পারিবারিক বন্ধনগুলো পুনরায় সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বয়স্কদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে যেন পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটে এবং অবহেলার শিকার প্রতিটি প্রবীণ নাগরিক যেন দ্রুত আইনি সুরক্ষা পান। একটি সভ্য সমাজ কখনোই তার প্রবীণদের এমন করুণ ও অমানবিক পরিণতি মেনে নিতে পারে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


এ জাতীয় আরো খবর...