শিরোনামঃ
আলিয়ঁসে আজ শুরু হলো যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’ পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা চলছে: ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক আকাশচুম্বী টিকিটের দাম: বিশ্বকাপের ফাঁকা গ্যালারি নিয়ে উদ্বেগ দিনশেষে রিকশাচালকরা পেটে ভাতে, মালিকদের পোয়াবারো ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্তে হতবাক নেতানিয়াহু, জানতেন না কিছুই! ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কাতারের গোপন আঁতাত! ফাঁস করল ওয়াশিংটন পোস্ট ছুটির দিনের বিকেলে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি, ভোগান্তিতে পথচারী সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করলেন গভর্নর
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে অভিহিত হতে যাচ্ছে। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া এই খসড়া চুক্তিটি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষেই এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে। চুক্তির অন্যতম প্রধান ও তাৎক্ষণিক শর্ত হলো, কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক ছাড়াই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের মতো স্বাভাবিক সংখ্যায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে এবং চুক্তি মেনে চলার শর্তে ইরানকে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য তেল বিক্রির সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা দেওয়া হবে, যা তেহরানের অবরুদ্ধ অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি রাজস্ব আয়ের পথ খুলে দেবে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বৃদ্ধি পাবে এবং এই ৬০ দিন সময়সীমার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তির খসড়ায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মোকাবিলার একটি প্রাথমিক রূপরেখা রয়েছে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের পরিদর্শকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ইরানের অভ্যন্তরেই তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে আনার বিকল্পে একমত হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত সমাধান পরবর্তী সময়ে হতে যাওয়া দ্বিতীয় এবং আরও বিস্তারিত একটি জটিল চুক্তির ওপর নির্ভর করবে। এদিকে বিদেশের মাটিতে আটকে থাকা ইরানের শত কোটি মার্কিন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিলের অবমুক্তি নিয়ে খসড়ায় কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে; তেহরানের দাবি তাৎক্ষণিক অর্থ ছাড়ের হলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো চুক্তি মানার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে এই অর্থ অবমুক্ত করা।

এই চুক্তির নেপথ্যে তেহরানে কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারী আলী আল-থাওয়াদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আল-থাওয়াদি সরাসরি ট্রাম্পের বিশ্বস্ত দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ফোনে সমন্বয় করেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই আকস্মিক চুক্তি চূড়ান্তকরণের ঘোষণা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে, কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল এই আলোচনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য নেতানিয়াহু নিজেই ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছে ফোন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তেহরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত সবুজ সংকেত এখনো বাকি রয়েছে, তবুও এবার এই দ্বিপাক্ষিক খসড়াটি টিকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।


এ জাতীয় আরো খবর...