শিরোনামঃ
বডিশেমিংয়ের উত্তর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা দিনে গড়ে ১০ খুন: জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক নৌকাযোগে নারীকে পুশইনের চেষ্টা, রোকনপুর সীমান্তে বিএসএফের অপচেষ্টা রুখল বিজিবি সীমান্তে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ খতিয়ে দেখতে দিল্লির উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন ৫৪ জেলার পানিতে বিষাক্ত আর্সেনিক ও আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি আদ-দ্বীনের অন্য শাখা চলতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুবাইয়ে ধৃত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ৩৩ মামলা, প্রত্যর্পণে নথিপত্র অনুবাদ হচ্ছে আরবিতে রামিসা হত্যা মামলা: আসামিদের পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের গ্যালারিতে ট্রুডো ও কেটি পেরি, নতুন করে বিশ্বমিডিয়ায় সম্পর্কের গুঞ্জন
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

দুবাইয়ে ধৃত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ৩৩ মামলা, প্রত্যর্পণে নথিপত্র অনুবাদ হচ্ছে আরবিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই দাপুটে পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণঅভ্যুত্থানে হত্যাসহ মোট ৩৩টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের বেঁধে দেওয়া ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠানোর লক্ষ্যে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছয়টি মামলার নথিপত্র হুবহু ইংরেজি এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় ভাষা আরবিতে অনুবাদ করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

ইন্টারপোলের গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দুদকের ৬ মামলা

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদকের বিশেষ তদন্ত দল। দুবাই ইন্টারপোল থেকে তাঁর গ্রেফতার সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পর আমরা তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার কপি, অভিযোগপত্র, এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ যাবতীয় নথিপত্র ইংরেজি ও আরবি ভাষায় অনুবাদ করছি। এগুলো দ্রুতই পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা শাখার মাধ্যমে আবুধাবি এনসিবির দপ্তরে পাঠানো হবে।”

একটি নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই পুলিশ মূলত দুদকের মামলায় এনসিবি ঢাকার পাঠানো ‘রেড নোটিশের’ (ফাইল নম্বর ২০২৫/২৩৯ এবং কন্ট্রোল নম্বর ৫৭৪/২০২৫) ভিত্তিতেই বেনজীরকে গ্রেফতার করেছে। তাই আইনি জটিলতা এড়াতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আপাতত শুধু দুদকের এই ৬টি দুর্নীতির মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই পাঠানো হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর নথি এই দফায় না পাঠানোর সম্ভাবনাই বেশি।

ট্রাইব্যুনালে ১০ মামলা ও রিমান্ডের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গতকাল নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বেনজীর আহমেদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বেনজীর আহমেদ শুধু মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনার কুশীলব বা মাস্টারমাইন্ডই নন; তিনি একসময় আড়ালে থেকে রাষ্ট্র চালাতেন। তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও দম্ভোক্তি এমন ছিল যে, দেশের কোনো কোনো জায়গায় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি শক্তিশালী ভূমিকা নিতেন।”

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় বেনজীরের বিরুদ্ধে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তিনটি সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে। তিনি যখন র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন, তখনকার গুমের ঘটনা এবং কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ার’ নামে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট জানান, “তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরপরই ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোতে সশরীরে হাজির করা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

রাজধানীর ১১ থানায় ১৭টি হত্যা ও সহিংসতা মামলা

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির বাইরেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও নৃশংসতার দায়ে রাজধানীর ১১টি থানায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সরাসরি হত্যা মামলাসহ মিরপুর থানাতেই রয়েছে চারটি মামলা। এছাড়া হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় গুলশান, হাজারীবাগ ও শেরেবাংলা নগর থানায় দুটি করে এবং উত্তরা পশ্চিম, শাহবাগ, ভাটারা, শাহজাহানপুর, রমনা, যাত্রাবাড়ী ও হাতিরঝিল থানায় একটি করে মামলা নথিবদ্ধ হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর এই ১৭টি মামলার নথিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করছে।

৩০ দিনের সময়সীমা ও ফিরিয়ে আনার আশাবাদ

গত রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, ইউএই ফেডারেল ল’ অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ (১২ জুন ২০২৬) থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।

পুলিশ সদরদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এনসিবি আবুধাবি আমাদের চিঠি দিয়ে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নথি চেয়েছে। যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার নিজে থেকেই তাঁর গ্রেফতারের তথ্য জানিয়ে সময় বেঁধে দিয়েছে, তাই আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।” তবে গ্রেফতারের পর বর্তমানে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের ঠিক কোন কারাগারে বা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেনি দুবাই পুলিশ।


এ জাতীয় আরো খবর...