শিরোনামঃ
নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : হুইপ দুলু প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ‘নজরুল ভিলেজ’ উদ্বোধন করা হবে: ভূমিমন্ত্রী বউ নিয়ে বাজি: আর্জেন্টিনার জয়ে বিবাহিতা কবিতার যে পরিণতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

বিএমইউতে পদোন্নতির শর্টকার্ট: রাজনৈতিক প্রভাবে অধ্যাপক ১০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

সক্রিয় শিক্ষকতার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা ছাড়াই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১০ জন সহযোগী অধ্যাপককে রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রমার্জনার মাধ্যমে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া সবাই বিএনপি সমর্থক চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের নেতা ও সদস্য। এদের একজন টাইমস অব বাংলাদেশকে এও জানিয়েছেন যে, এমন আরও ৩৮ জনের ফাইল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য অন্তত পাঁচ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক হলেও, তাদের কারও দেড় বছর, কারও দুই বছরের অভিজ্ঞতা আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এই সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনা করে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘একাডেমিক যোগ্যতা মওকুফ করে রাতারাতি অধ্যাপক বানিয়ে দেওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ফসল।’

গত ১২ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে পদোন্নতির অন্যতম প্রধান শর্ত ‘সক্রিয় শিক্ষকতার সময়সীমা’ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মওকুফ করার কথাও উল্লেখ ছিল।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত দশজন হলেন অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের শেখ ফরহাদ, একই বিভাগের এরফানুল হক সিদ্দিকী, মো. আশরাফুল ইসলাম ও মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল; শিশু সার্জারি বিভাগের এএম শাহীনূর; ইউরোলজি বিভাগের মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; ফিটোমেটারনাল মেডিসিন বিভাগের উম্মে কুলসুম; গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের মো. জাহিদুর রহমান এবং শিশু নিউরোলজি বিভাগের কাজী আশরাফুল ইসলাম।

কেন শর্ত পূরণ না করার পরও এই পদোন্নতি দেওয়া হলো- টাইমস অব বাংলাদেশের এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল বলেন, ‘আমি প্রচলিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারেই দায়িত্ব পালন করি। সাংবিধানিক ব্যবস্থায় যেখানে স্বাক্ষর করা প্রয়োজন, সেখানে স্বাক্ষর করি। এর বাইরে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তার কাছে মূলত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের বিষয়টি আসে, আর সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই দিয়ে পাঠায়। কোন ফাইল কখন নিষ্পত্তি করেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করতে হয়।

আগে পদোন্নতি পরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

আরেকটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ১০ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার দেড় মাস পর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১ জুন বিএমইউ একটি নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

সেই বিজ্ঞপ্তির ‘অধ্যাপক’ পদের যোগ্যতার শর্তে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, প্রার্থীকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৫ বছর এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে মোট ১০ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সাথে প্রার্থীর কমপক্ষে ১২টি গবেষণা প্রকাশনা থাকা বাধ্যতামূলক।

শিক্ষাবিদ এম ওয়াহিদুজ্জামান এই পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘বেআইনি’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। টাইমসকে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বা সংবিধানের কোথাও রাষ্ট্রপতির ‘প্রমার্জনা’ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতির শর্ত শিথিল করার কোনো বিধান নেই।’

তার মতে, এটি ‘গায়ের জোরে’ করা হয়েছে এবং গায়ের জোরে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ‘অপরাধ’।

তবে এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বিএমইউ প্রক্টর ও পদোন্নতিপপ্রাপ্ত শেখ ফরহাদ টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের কারও নিয়ম অনুযায়ী ৫ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নেই। এক বছর বা দেড় বছর হয়েছে। তবে যাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে তারা কেউ ২০১০ সালে, কেউ ২০১২ সালে এমএস বা উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করেছেন।’

অর্থাৎ তাদের ডিগ্রির বয়স ১২ থেকে ১৭ বছর হলেও অনেক চিকিৎসক দীর্ঘ সময় মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন, বলেন তিনি।

তার দাবি, ‘আমাদের অনেককেই পদোন্নতি না দিয়ে মেডিকেল অফিসার বা কনসালট্যান্ট হিসেবেই আটকে রাখা হয়েছিল রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্যই।’

তাদের ছাত্ররাও পাঁচ বছর আগে অধ্যাপক হয়ে বসে আছেন দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের অভিজ্ঞতা কি আমাদের চেয়ে বেশি? যারা বলছে অভিজ্ঞতা নেই, তাদের প্রশ্ন করেন এত বছর পদোন্নতি দেওয়া হয়নি কেন।’

ড্যাবে তাদের পদ কী

২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ড্যাবের ২৭৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনের পাশাপাশি সংগঠনের ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদও গঠিত হয়।

যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের মধ্যে এরফানুল হক সিদ্দিকী ড্যাবের বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখা সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। শেখ ফরহাদ বিএমইউ শাখা সাধারণ সম্পাদক, এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বিএমইউ শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিএমইউ শাখা সহ-সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। মো. আব্দুস সালাম বিএমইউ শাখা সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান কমিটির এক্স-অফিসিও সদস্য। এএম শাহীনূর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আশরাফুল আলম মানিক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। উম্মে কুলসুম, মো. জাহিদুর রহমান ও কাজী আশরাফুল ইসলাম ড্যাবের আজীবন সদস্য।

তবে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটি এই প্রমার্জনার জন্য কোনো তদবির করেনি দাবি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হারুন আল রশীদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ব্যক্তিগত অবস্থান বিবেচনা করে ফাইল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছে।’

তার ভাষ্য, বর্তমানে পদোন্নতি পাওয়া অনেক চিকিৎসক ২০০২-০৩ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েও দীর্ঘ সময় মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন। অথচ তাদের পরে চাকরিতে যোগ দেওয়া অনেকেই অধ্যাপক হয়ে গেছেন।

‘তারা ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত ছিলেন। সুযোগ পেয়েই আবেদন করেছেন, তাই পদ পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রমার্জনার আবেদন করে থাকলে সেটি বিশেষ বিবেচনায় গ্রহণ করা যৌক্তিক’, বলেন ড্যাব নেতা।

তার দাবি, বাংলাদেশে এর আগেও বহুবার রাষ্ট্রপতির এমন প্রমার্জনা হয়েছে। তবে টাইমসের প্রশ্নে প্রমার্জনার পূর্বের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি ড্যাব।

আরও ফাইল যাচ্ছে রাষ্ট্রপতির কাছে

প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক তদবিরে নয় বরং সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত শেখ ফরহাদ।

প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি একটি নির্ধারিত পদোন্নতি বোর্ড। বোর্ডে উপাচার্য, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বহিরাগত বিশেষজ্ঞ এবং রেজিস্ট্রার (সচিব)সহ মোট ১০ সদস্য থাকেন। আমি যেহেতু অর্থোপেডিকসের, তাই আমার মূল্যায়নের জন্য অর্থোপেডিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ও একজন বহিরাগত বিশেষজ্ঞ ছিলেন।’

একই ধরনের আরও ৩৮ জনের ফাইল ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রমার্জনার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে আরও যাদের পদোন্নতি হবে এবং যাদের শুধু ‘সক্রিয় শিক্ষকতার’ ঘাটতি থাকবে, তাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা চাওয়া হবে।’

মন্ত্রণালয় চুপ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন এভাবে পদোন্নতির শর্ত ভাঙার প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাল সে প্রশ্নে বোর্ড কমিটির প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এফ এম সিদ্দিকী বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা টাইমসকে বলেন, ‘কোনো পত্রিকার সঙ্গে উপাচার্য কথা বলেন না এবং তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।’

পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) এস এম আহসানুল আজিজ বলেন, ‘সরকারের বিধান অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থ ও একাডেমিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রমার্জনা করতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের পর যদি সংশ্লিষ্টরা অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও মানদণ্ড পূরণ করেন, তাহলে তা নিয়ে সমস্যার কথা নয়।’

তার ধারণা, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব মানদণ্ড পূরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করেন।

তবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক পুরো প্রক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চিকিৎসকেরা যখন পরবর্তীতে থিসিস সুপারভাইজার বা পরীক্ষক হবেন, তখন তাদের একাডেমিক যোগ্যতা আন্তর্জাতিক মহলে হাসির পাত্রে পরিণত হবে। এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষাকে ধ্বংস করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র।’

অধ্যাপক কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি। কিন্তু পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাউকে এই চেয়ারে বসানো হলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর।’

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘বঞ্চনার’ অজুহাত তুলে অনেককে মেডিকেল অফিসার থেকে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করিয়ে মাত্র দেড় বছরের মাথায় সহযোগী অধ্যাপক করা হয়েছে বলেও জানান সেই অধ্যাপক।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর...