শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি জনভোগান্তির মূল কারণ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না জুলাইয়ের বিচার : হামিদুর রহমান আযাদ আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যা বললেন সালমান খান দিল্লি পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

অবশেষে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সব ধরণের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর মানসিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন বঙ্গভবনের বর্তমান বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির রূপান্তর এবং ক্ষমতাসীনদের সংকেত পাওয়ার পর আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আবার রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ‍্যে তিনি পদত‍্যাগ করে গুলশানের বাসায় উঠবেন। তবে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবারই (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

বর্তমানে বঙ্গভবনের অন্দরমহলে তার বিদায়কালীন প্রস্তুতি চলছে। পদত্যাগের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির এই সম্ভাব্য বিদায়কে কেন্দ্র করে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হতে যাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। তবে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটলে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যায়। সেই কঠিন সংকটকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ পরিচালনা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি ভূমিকা পালন করলেও গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন ও আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা শুরু থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানামুখী প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতির পদের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে পুনরায় রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার হয়ে ওঠে।

ক্ষমতাসীন নতুন সরকার শুরুর দিকে এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না দেখালেও নেপথ্যের নীতি-নির্ধারণী আলোচনায় বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়নি। পূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার কিছু ভূমিকা এবং বিতর্কিত এক শিল্পগোষ্ঠীর মালিকানাধীন ব্যাংকে উচ্চপদে আসীন থাকার বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগেই অসন্তোষ ছিল। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে তার বর্তমান শারীরিক অসুস্থতা। সম্প্রতি লন্ডনে জটিল বাইপাস সার্জারি করিয়ে দেশে ফেরার পরও তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। ফলে কোনো প্রকার রাজনৈতিক সংঘাত বা অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি না করে শরীরিক অসুস্থতাকে ভিত্তি করে একটি সম্মানজনক ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখা বিদায়কেই বেছে নেওয়া হচ্ছে।

ভেতরের খবর অনুযায়ী, নীতি-নির্ধারকদের তরফ থেকে অত্যন্ত শালীন ও ইতিবাচক উপায়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়েছেন। সংবিধানের নির্ধারিত ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি বর্তমান স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পেশ করবেন। নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকেই সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পিত হবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের ওপর। ফলে খুব দ্রুতই বঙ্গভবনের নির্বাহী প্রশাসনিক হস্তান্তরে কোনো আইনি বা সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে না বলে মনে করছেন আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় কৌতুহল ও আলোচনার বিষয় হলো—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ রাজনীতিকের নাম সম্ভাব্য তালিকায় উচ্চারিত হলেও, হঠাৎ করেই এক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। তিনি হলেন অভিজ্ঞ মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজের গভীর দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার সক্ষমতা বিবেচনা করে নীতি-নির্ধারকরা একজন পেশাদার আমলা হিসেবে তাকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করছেন।

সংবিধানের ১২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের ভেতরে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাতীয় সংসদে বর্তমানে একক ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন দল যাকেই মনোনীত বা সমর্থন করবে, তার বঙ্গভবনে যাওয়া এক প্রকার নিশ্চিত। সব মিলিয়ে বঙ্গভবনে একটি বহুচর্চিত ও সংবেদনশীল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। আগস্টের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের এই পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তির পদত্যাগ নয়, বরং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক পুনর্বিন্যাসেরই এক চূড়ান্ত আইনি প্রতিফলন।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই)  বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি চাইলে সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন। স্বাস্থ্যগত অথবা যে কোনো কারণে সেটা করার অপশন আছে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। আর সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন এবং গুঞ্জন শুনছেন সেটা আমিও শুনেছি।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ২৪, দেশ রূপান্তর ও কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...