দেশের বিদ্যমান ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দুর্বল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকারিতার কারণে সাধারণ মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আর স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবার দায়িত্ব কার্যকর স্থানীয় সরকারের হাতে থাকা উচিত।
পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে মানুষের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নিরাপদ চিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরপেক্ষ বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার কারণে জনগণের ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ওপর।
তিনি বলেন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, চাকরির সুপারিশ কিংবা চিকিৎসার খরচ—সবকিছুর জন্য মানুষ সংসদ সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অথচ একজন এমপির সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো আইন প্রণয়ন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে অংশ নেওয়া এবং সরকারের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এনসিপির এই নেতা বলেন, কার্যকর স্থানীয় সরকার না থাকায় চেয়ারম্যান ও মেয়রদের অনেক দায়িত্বও সংসদ সদস্যদের ওপর এসে পড়েছে। ফলে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে অনেক এমপি ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে অনেক সংসদ সদস্যের পরিবর্তে তাদের ব্যক্তিগত সহকারী, দলীয় অনুসারী বা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক সেবা না পেয়ে ব্যক্তি-নির্ভর ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, রাজনৈতিক আশ্রয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয় তুলে আনতে উন্নয়ন প্রকল্পে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং প্রভাবশালীরা অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করছেন।
তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন হারানোর আশঙ্কায় অনেক সংসদ সদস্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নিয়ে আলোচনা না করে রাজনৈতিক স্লোগান ও দলীয় প্রশংসায় সময় ব্যয় করেন।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়, সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।