বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

দেশের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আইনি কাঠামো ও বিধিমালায় যুগান্তকারী ও কঠোর পরিবর্তনের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবিত নতুন বিধান অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী, দ্বৈত নাগরিক, ব্যাংক ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থার বিলখেলাপি ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সাথে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনী আইনে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার ভেতর দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিশন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিদ্যমান নির্বাচনী আইন সংশোধন সম্পর্কিত ইসির এই বিশেষ সুপারিশমালায় আরও কয়েকটি সংবেদনশীল বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন মনে করে যে, নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত এবং রাষ্ট্রীয় পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এছাড়া কোনো লাভজনক পদে বহাল থেকে বা স্থানীয় সরকার প্রশাসনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রার্থী হওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসক পদে নিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই তাদের পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিতর্কহীন করতেই এসব কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের এই প্রস্তাবিত খসড়া শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমোদন লাভের পর সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে আইনে রূপ নেবে। ইসির সচিব জানান যে, সংবিধানের কাঠামোর সাথে সংগতি রেখেই দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের মতে, স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে এই সংশোধনীগুলো সংসদে পাস হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অভাবনীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

স্থানীয় নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাপনা ও সংশোধন প্রক্রিয়াতেও একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পর পর নাগরিকদের এনআইডি নবায়নের সুযোগ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে পারিবারিক বংশলতিকা বা ‘ফ্যামিলি ট্রির’ তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। তাছাড়া ভুল জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হলেও, এখন থেকে এসএসসি বা পিএসসি সনদের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়েই এই সংশোধনীর নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন জটিলতা কমাতে প্রক্রিয়াটিকে এক ধাপে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও এনআইডির আওতায় আনার প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে ইসি।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর...