শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি জনভোগান্তির মূল কারণ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না জুলাইয়ের বিচার : হামিদুর রহমান আযাদ আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যা বললেন সালমান খান দিল্লি পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

মহাখালীর অলস বাস সরানোর উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা ও অতিষ্ঠ যানজট নিরসনে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে অলস ও অলস পড়ে থাকা বাসগুলো সরিয়ে নেওয়ার এক নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহাখালী টার্মিনাল ও এর আশপাশের রাস্তায় যানজট সৃষ্টিকারী অতিরিক্ত বাসগুলোকে পূর্বাচলের নবনির্মিত একটি অস্থায়ী ডিপোতে স্থানান্তর করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে সরেজমিনে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ও হতাশাজনক। নির্ধারিত পূর্বাচল এলাকায় বাস্তবে কোনো আধুনিক বাস ডিপোর পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি, এমনকি নির্মাণকাজের এক শতাংশ অগ্রগতিও চোখে পড়েনি। মহাখালী থেকে প্রতীকীভাবে সরিয়ে নেওয়া হাতেগোনা কয়েকটি বাস রাখা হচ্ছে পূর্বাচলের তিন নম্বর সেক্টরের সাধারণ চলাচলের পাকা রাস্তার ওপর। কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা অবকাঠামোগত সুবিধা না রেখে রাস্তার ওপর এভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা ও ডিপো চালুর পুরো উদ্যোগটিকে কেবলই ‘প্রতীকী লোকদেখানো আয়োজন’ বলে অভিহিত করছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অবশ্য সরকারি তথ্য ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দাবি অনুযায়ী, যানজট কমানোর লক্ষ্যেই এই স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। আধুনিক ক্যামেরা স্থাপনসহ নানা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই মহাখালী থেকে পূর্বাচলে অলস গাড়ি স্থানান্তরের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিমত, মহাখালী টার্মিনালে প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় দেড় হাজার বাস চলাচল বা অবস্থান করে। এর মধ্যে প্রায় নয়শত বাস নিয়মিত বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে চলাচল করলেও বাকি প্রায় ছয়শত বাস সারাদিন টার্মিনাল চত্বরে কিংবা প্রধান সড়কের ওপর পার্কিং করা অবস্থায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে থাকে। বিশেষ করে রাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা বাসগুলো সারাদিন মহাখালী এলাকার মূল সড়কে দাঁড়িয়ে থাকার ফলেই মূলত টার্মিনাল সংলগ্ন প্রধান সড়কে প্রতিদিন তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদী যানজটের সৃষ্টি হয়। অলস বাসগুলোকে টার্মিনাল এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারলে প্রধান সড়কের যানজট অনেকাংশেই কমে আসবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি সাময়িক ও পরীক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মতে, মহাখালী টার্মিনালের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত অলস বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে সাধারণ দূরপাল্লার যাত্রী যাতায়াতে কোনো ধরনের বিঘ্ন বা অসুবিধা ঘটছে না। যাত্রীদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত মূল গাড়িগুলো পূর্বের নিয়মেই মহাখালী থেকেই ছেড়ে যাচ্ছে ও প্রবেশ করছে। শুধু যেসব বাস দিনে কোনো ট্রিপে থাকে না, সেগুলোকে পূর্বাচলের ওই অংশে ডিপো হিসেবে রাখতে বলা হয়েছে। তবে পরিবহন মালিকদের ওপর এটি বাধ্যতামূলক করা হয়নি; যারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অন্যত্র গাড়ি রাখতে সক্ষম, তারা সুবিধাজনক জায়গায় গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ পাচ্ছেন। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আরও আশা প্রকাশ করা হয় যে, পূর্বাচলের নির্ধারিত ওই স্থানে নিরাপত্তা ও প্র প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে মাসখানেকের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী একটি ডিপো আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সহায়তা ও সদিচ্ছার কারণেই মহাখালী টার্মিনাল ও আশপাশের সড়ক আপাতত অনেকটাই ফাঁকা করা সম্ভব হয়েছে। বন্ধ বা অলস থাকা গাড়িগুলোকে পূর্বাচলের অস্থায়ী পয়েন্টে পাঠিয়ে দেওয়ার ফলে মহাখালী টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখে যানবাহনের যানজট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আগে রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যে দীর্ঘ জটলা লেগে থাকত, তা দূর হওয়ায় এখন দূরপাল্লার বাসগুলোকে খুব সহজেই টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া ও বের করা সম্ভব হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মহাখালী সংলগ্ন মূল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে বেশ স্মুথ ও দৃশ্যমান সুশৃঙ্খল রূপ পেয়েছে বলে দাবি করছে ট্রাফিক পুলিশ।

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা সফল বা কার্যকর হবে, তা নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ পরিবহন কর্মীদের মধ্যে এখনও বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে। রাস্তার ওপর গাড়ি সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রেখে তাকে ডিপো হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার সাময়িক চেষ্টা নগরীর অন্য একটি পয়েন্টে নতুন করে যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। পূর্বাচলের মতো আধুনিক পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সেক্টরের সাধারণ রাস্তায় এভাবে বিশালাকার অলস বাস সারাদিন ফেলে রাখায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সরকারের নেওয়া মহাখালী কেন্দ্রিক এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপে প্রকৃত সাফল্য আসবে নাকি এটি স্রেফ কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ একটি স্বস্তির চেষ্টা হয়ে থাকবে, তা মূলত নির্ভর করছে খুব দ্রুত পূর্বাচলে একটি সমন্বিত, সুসংগঠিত, নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ডিপো গড়ে তোলার সক্ষমতার ওপর।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ


এ জাতীয় আরো খবর...