রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

তারেক রহমানের বৈঠকের আগে, ঢাকায় মোদি ও ট্রাম্প দূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

তিন দিনের সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসার ঠিক আগের মুহূর্তে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে এক সৌজন্য ও পারস্পরিক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দুই প্রভাবশালী পরাশক্তির এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন বিশেষ দূতের এই ভারতীয় শীর্ষ প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎ দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে মার্কিন কূটনৈতিক সুত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সার্জিও গর ও ভারতের হাইকমিশনারের মধ্যকার বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও বন্ধ দুয়ারের এই একান্ত আলাপে সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে বা কী বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন বা ভারতীয় মিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করা হয়নি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, চলতি বছরের জুন মাসের ২৫ তারিখে দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করলে সার্জিও গর তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের কৌশলগত নানা ইস্যুতে একসাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। ফলে ঢাকার মাটিতে তাদের এই সাক্ষাৎ সেই ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবারে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক মিশন নিয়ে তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছান বিশেষ দূত সার্জিও গর। সফরের প্রথম দিনেই তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। ঐ সফল বৈঠক শেষে ওয়াশিংটন ও ঢাকার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্য সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় এগিয়ে নেওয়ার ইতিবাচক বার্তা প্রদান করেন। তবে এই সম্পূর্ণ সফরের সবচেয়ে নজরকাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সার্জিও গরের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি। সেই চূড়ান্ত আলোচনার ঠিক প্রাক্কালে ঢাকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকটি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঢাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার ফাঁকে সফররত এই শীর্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদল শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করতে যান। ১৪ সদস্যের একটি বৃহৎ প্রতিনিধিদলকে সাথে নিয়ে সার্জিও গর কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে সরাসরি উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপির মানবিক সহায়তার কেন্দ্রগুলো এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থা পরিচালিত শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রমসমূহ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। উখিয়ায় অবস্থানকালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বর্তমান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ এবং সার্বিক মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করেন। এই সময় বাংলাদেশে দায়িত্বরত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন প্রতিনিধিদলের সাথে উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ কেন্দ্রিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দিক। একদিকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, আর অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় উদীয়মান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন দূত ও ভারতীয় হাইকমিশনারের এই আকস্মিক সাক্ষাৎকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার এক কৌশলী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সার্জিও গরের বৈঠকটি সমাপ্ত হলেই ঢাকাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ভারতের আগামী দিনের যৌথ মনোভাবের গতিপথ স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মানবজমিন


এ জাতীয় আরো খবর...