সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে অলি আহমদই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে ১১ দলীয় ঐকের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জয়-পরাজয় তাদের কাছে মূল বিষয় নয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

সোমবার নির্বাচন কমিশন থেকে অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব দলীয়ভাবে—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে জয়-পরাজয়টা বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসছি।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রধান ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতির নির্বাচনও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।

‘আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে দেশকে নিয়ে যেতে চাই। দেশ পরিচালনার জন্য আমরা সেই উদ্যোগই গ্রহণ করেছি,’ বলেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আওতায় আসত। এতে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন। আর সেই সুযোগ থাকলে অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।

তিনি বলেন, ‘একদিকে আপনি সংসদ সদস্যকে ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার তার সেই অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন। আপনি বলছেন, পাখির মতো স্বাধীন, কিন্তু হাত-পা বাঁধা। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য দীর্ঘদিন ধরে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের কথা বলে আসছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে অলি আহমেদের মতো একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও বাস্তবে কাজে লাগেনি।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সে সময় সম্ভাবনার জায়গা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ওই সংসদে জামায়াতের ১৮টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৫টি আসন ছিল। অন্য দলগুলোরও আসন ছিল। সে সময় বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্যরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিলে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই সম্ভাবনা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।

তবে এবার বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সেই সম্ভাবনা না থাকলেও কেন ১১ দলীয় ঐক্য প্রার্থী দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবারও আমরা একটা বিষয় জাতির সামনে আনতে চাই। বিএনপির রাষ্ট্রের সঙ্গে এবং জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা, এটা আমরা জাতির সামনে আনতে চাই।’

জুলাই সনদে সবাই একমত হয়েছিল এবং এ বিষয়ে আদেশও হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে গণভোটে জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐকের প্রার্থী অলি আহমদের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং রণাঙ্গনের সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, চাকরিতে আরও নয় বছর বাকি থাকলেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে অলি আহমাদ রাজনীতিতে আসেন। তিনি চারবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

হামিদুর রহমান আযাদের দাবি, অলি আহমাদ একজন পিএইচডিধারী, দক্ষ কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে অলি আহমাদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারতেন। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।

‘এই সম্ভাবনা সমুজ্জ্বল ছিল। দুর্ভাগ্য, জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। বিএনপির বিচক্ষণতার কারণে অথবা সংস্কারের ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে রাষ্ট্র একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সেবা থেকে বঞ্চিত হলো,’ বলেন তিনি।

এর আগে সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে অলি আহমাদ বীর বিক্রমের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ১১ দলীয় ঐকের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। েআগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১১টায় অলি আহমাদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম দাখিল করা হবে।

এ সময় বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নূরন্নেসা সিদ্দিকা ও মারজিয়া বেগমসহ ১১ দলীয় ঐকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এলডিপির প্রতিনিধি বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মোহাম্মদ শহিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...