শিরোনামঃ
সালমান শাহকে নিয়ে সিনেমা ‘লাভ ৯৬’ পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর প্রস্তুতিতে বাধা: গ্যাস ঘাটতিতে আটকে আছে রূপপুরের রিজার্ভ সক্ষমতা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ৯ বছর আজ অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের অর্ধেকই নেই বাজারে দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস: বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ আমদানি ভারত থেকে উৎপাদন বিপর্যয় ও রফতানি বাণিজ্যে অশনিসংকেত: জ্বালানি সংকটে স্থবির শিল্প খাত আকাশপথে ‘জিম্মি’ রাজশাহী-ঢাকা রুটের যাত্রীরা সহযোদ্ধা থেকে প্রতিপক্ষ: ক্যাম্পাসে আধিপত্যের নতুন দ্বন্দ্বে ছাত্রদল ও শিবির বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ১০ দেশের মন্ত্রিসভার আকার কেমন দুবাইয়ে দুই রোবটের ‘বিয়ে’, সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

ব্যাংক ঋণেই ভরসা সরকারের: অর্থবছরের প্রথম মাসেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের সরকারি খাতের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘মানি মার্কেট ডিনামিকস’ নামক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল জুলাই মাসজুড়েই ট্রেজারি বিল এবং বন্ডের নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার সর্বমোট ছাপ্পান্ন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। অবশ্য একই নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সরকার পূর্বের বিভিন্ন দফার ঋণ বাবদ প্রায় সাড়ে আটচল্লিশ হাজার কোটি টাকা পরিশোধও করেছে, যার ফলে জুলাই মাস শেষে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় সাত হাজার পাঁচশ কোটি টাকায়। মূলত রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়, বড় মাপের উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক চাহিদা এবং বাজেট ঘাটতির চাপ সামাল দিতেই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর এই অতিমাত্রিক নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে।
ট্রেজারি বিল ও বন্ডের নিলাম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের চাহিদা মেটাতে সরকার জুলাই মাসে চারটি বিল নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে দুই থেকে বিশ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের তিনটি নিলামের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পুরো ঋণের প্রক্রিয়া চলাকালীন ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার বা ইল্ড উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মাসের বিভিন্ন ধাপে ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের সুদহার বেড়ে প্রায় দশ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার সার্বিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা পরবর্তীতে জাতীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারের বাজেট ঘাটতি দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত টান সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির নতুন প্রস্তাব এবং বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ মেলাতে গিয়ে সরকারকে বারবার ব্যাংকিং খাতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে কেবল ব্যাংক ঋণের ওপর এভাবে নির্ভর করতে থাকলে তা একপর্যায়ে বিপজ্জনক ঋণের ফাঁদে রূপ নিতে পারে।
ব্যাংক খাতের এই অতিমাত্রিক ঋণগ্রহণ সামগ্রিকভাবে দেশের বেসরকারি খাতের ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং উদ্যোক্তারা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সম্প্রসারণের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। ব্যাংকারদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণের পর্যাপ্ত চাহিদা বা উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারও খুব সহজে ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে পারছে, কিন্তু এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ করে দিচ্ছে।
অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক নীতি বিবৃতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বর্তমান ধারার এই ঋণ গ্রহণের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি তেত্রিশ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে বাজেটের একটি বিরাট অংশ কেবল বিগত বছরগুলোর ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ব্যয় হয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতের উন্নয়ন বরাদ্দকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে কেবল ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের জন্য অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা


এ জাতীয় আরো খবর...