শিরোনামঃ
পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর প্রস্তুতিতে বাধা: গ্যাস ঘাটতিতে আটকে আছে রূপপুরের রিজার্ভ সক্ষমতা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ৯ বছর আজ অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের অর্ধেকই নেই বাজারে দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস: বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ আমদানি ভারত থেকে উৎপাদন বিপর্যয় ও রফতানি বাণিজ্যে অশনিসংকেত: জ্বালানি সংকটে স্থবির শিল্প খাত আকাশপথে ‘জিম্মি’ রাজশাহী-ঢাকা রুটের যাত্রীরা সহযোদ্ধা থেকে প্রতিপক্ষ: ক্যাম্পাসে আধিপত্যের নতুন দ্বন্দ্বে ছাত্রদল ও শিবির বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ১০ দেশের মন্ত্রিসভার আকার কেমন দুবাইয়ে দুই রোবটের ‘বিয়ে’, সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য নুসরাত হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি, চারজনের যাবজ্জীবন
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ৯ বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ০ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার আজ ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের নিজভূমে নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দীর্ঘ নয় বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রবাহ দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় এই সংকট নতুন করে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে দিন যত গড়াচ্ছে, নিজ ভিটেমাটিতে ফেরার অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ততই গভীর হচ্ছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি আশ্রয়শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ২০১৭ সালে নিপীড়নের মুখে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ প্রবেশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধাবস্থা ও অস্থিরতার কারণে নতুন করে আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক আশ্রয় নিশ্চিত করা হলেও বৈশ্বিক তহবিল সংকট এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে ক্যাম্পগুলোতে মৌলিক খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক সেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত সাধারণ রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। তাদের একমাত্র চূড়ান্ত দাবি হলো নাগরিকত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি, জানমালের নিরাপত্তা এবং ভিটেমাটির নিশ্চয়তা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। কোনো নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার ছাড়া কেবল সীমান্ত পার করে দিলেই সংকটের টেকসই সমাধান হবে না বলে তারা মনে করছেন। অন্যদিকে বছরের পর বছর অনিশ্চিত জীবন, ক্যাম্পের সীমাবদ্ধ গণ্ডি এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে ক্যাম্পে বাল্যবিয়ে, মানবপাচার ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে সমুদ্রপথে বিপদসংকুল মানবপাচারের শিকার হয়ে বহু নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

দীর্ঘস্থায়ী এই উপস্থিতির প্রভাব পড়ছে কক্সবাজারের স্থানীয় জনপদ ও পরিবেশের ওপরও। বিপুল জনসংখ্যার কারণে ব্যাপক বনভূমি উজাড়, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট এবং স্থানীয় শ্রমবাজারে মজুরি কমে যাওয়ার মতো আর্থসামাজিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র ও অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা, আধিপত্য বিস্তার, মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযানের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপরাধের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। এপিবিএন জানিয়েছে, ক্যাম্পের সার্বিক নজরদারি বাড়াতে সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি সমন্বিত বিশেষ ইউনিট গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা কেবল বাংলাদেশের একক কোনো দ্বিপক্ষীয় সংকট নয়, বরং এটি গোটা অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃশ্যমান ও কার্যকর চাপ ছাড়া মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তাই তহবিল জোগানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নিতে বিশ্বনেতাদের অবিলম্বে জোরালো ও সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: নয়া দিগন্ত


এ জাতীয় আরো খবর...