শিরোনামঃ
নতুন টার্মিনাল নির্মাণের তোড়জোড়: এলএনজি আমদানির আর্থিক বোঝা ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বিপন্ন হতে পারে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি: আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাতে কারসাজি পাড়ার নিরাপত্তা মানে নিজের নিরাপত্তা: কিছু পরামর্শ নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালক আরশাদের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টির সুযোগ অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতিবাদ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিপন্ন হতে পারে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি: আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাতে কারসাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ০ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন নাকচ হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন ও নানা কারসাজির আশ্রয় নিয়ে বিশাল জ্বালানি তেল রিফাইনারি নির্মাণের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডের (এসপিএল) বিরুদ্ধে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরও আইন অমান্য করে রিফাইনারি সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখা এবং পুনরায় নতুন করে আবেদন করার ঘটনায় দেশের জ্বালানি খাতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সার্বিক অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের একটি ক্যাটালিস্ট রিফর্মিং ইউনিট (সিআরইউ) প্ল্যান্ট রয়েছে, যার বার্ষিক ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন। তবে সরকারের কোনো প্রকার প্রাথমিক বা চূড়ান্ত আইনি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি গোপনে এই প্ল্যান্টটিকে বছরে পৌনে ২৬ লাখ টন প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন এক পূর্ণাঙ্গ ক্রুড অয়েল রিফাইনারিতে রূপান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে তেল সরবরাহের নিজস্ব পাইপলাইন নির্মাণও সম্পন্ন করে তারা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি বিভাগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে এসপিএল।
বিপিসির প্রাথমিক ইতিবাচক সুপারিশ সত্ত্বেও প্রকল্পের বিনিয়োগের উৎস, বিদেশি মুদ্রার সংস্থান ও প্রযুক্তি আমদানির তথ্য অস্পষ্ট থাকায় ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আবেদনটি পুরোপুরি নাকচ করে দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় প্রস্তাব নাকচ করার তথ্য দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস গোপন রেখে প্রতিষ্ঠানটি আড়ালে রিফাইনারির নির্মাণকাজ পুরোদমে চালিয়ে যায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। শুধু তা-ই নয়, পূর্ববর্তী আবেদন নাকচের তথ্য বেমালুম গোপন রেখে রিফাইনারি পরিচালনার জন্য নতুন করে আবারও আবেদন জমা দেয় তারা।
তথ্য গোপন করে এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে মঙ্গলবার বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিমকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সংস্থাটি। গঠিত এই কমিটিকে সরেজমিনে প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে প্রসেসিং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি খতিয়ে দেখে সাত দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের এমন আইন অমান্যকারী কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বিষয়টিকে সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের মাটিতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর এমন অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা অবিশ্বাস্য এবং এটি সমগ্র খাতকে জিম্মি করার প্রমাণ। অপরদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে কোনো কোম্পানির জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন কিংবা খোলাবাজারে বিপণনের কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুমোদন ছাড়া টিকে গ্রুপের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের অনৈতিক আগ্রাসন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রস্তাবিত ৩০ লাখ টন সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের ভবিষ্যৎকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে। অতীতেও সংকটকালে মুনাফার লোভে মজুত থাকা সত্ত্বেও অকটেন বাজারে না ছাড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে। ফলে সরকারি নীতি লঙ্ঘনকারী এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেবল কমিটি গঠনই নয়, বরং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে।

 

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ২৪


এ জাতীয় আরো খবর...