চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ২টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী। তার পক্ষের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার বেলা ৩টায় পৌরসভার এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ও র্যালি করার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে সাবেক উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টারে বেলা ২টায় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের নেতাকর্মীরা মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সালাউদ্দিনের পক্ষের ঘোষিত কর্মসূচির স্থান দখলে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
পরে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। বেলা ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পরপর ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সালাউদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে সালাউদ্দিনের পক্ষের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। একই সময়ে তাদের ব্যানার ও ফেস্টুন ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে বেলা ২টার দিকে সালাউদ্দিনের অনুসারীরা সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নজর রয়েছে। বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের নাম ও তাদের কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষের মামলা বা আটকের তথ্যও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।