শিরোনামঃ
হঠাৎ কেন বলিউড ছাড়েন মালিনী সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার ১০ অমুসলিম দেশ একীভূত পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ হাজার আবেদন: ৫ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি বৈধভাবে বছরে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ আছে : মীর শাহে আলম উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নম্বর প্লেট ও কিউআর কোড আনার পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও চার জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি অর্থনীতির ভিত্তি গড়েছিলেন সাইফুর রহমান: রিজভী
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

একীভূত পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ হাজার আবেদন: ৫ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমলযোগ্য আর্থিক অনিয়মে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকদের জমানো আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে| প্রথম ধাপে আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পূর্ণ নতুন টাকা ছাপিয়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার বা তারল্য সুবিধা প্রদান করেছে| আজ সোমবার থেকে নির্ধারিত শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে| এর আগে গত রোববার পর্যন্ত একীভূত এই পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক নিজেদের জমা রাখা মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা এককালীন উত্তোলনের জন্য লিখিত আবেদন জমা দেন|
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক| বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকগুলোর তৎকালীন পর্ষদ ও প্রভাবশালী পরিচালকদের বিরুদ্ধে বেনামি ঋণ প্রদান, তহবিল তছরুপ এবং নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে| এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস বা বিএবি-র সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে| অন্যদিকে সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই চারটি ব্যাংকের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলম মাসুদের হাতে| লাগামহীন অর্থ আত্মসাতের ফলে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন ও আমানতকারীদের নিয়মিত অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে| এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক বিপর্যয় ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক পাঁচটিকে বিলুপ্ত করে একীভূতকরণের মাধ্যমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়|
আমানতকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শেষ পর্যন্ত নতুন মুদ্রা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে| বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ধুঁকতে থাকা এই পাঁচটি ব্যাংককে বিগত সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল| পুঞ্জীভূত সুদসহ বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই পাওনার স্থিতি প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে| আগের সেই বিপুল দেনা বকেয়া থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের আতঙ্ক দূর করতে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হয়েছে| নতুন মুদ্রা ছাপানোর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতি বা নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সরাসরি ঝুঁকি রয়েছে| কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির এই বিরূপ প্রভাবের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে জেনেও পুরো ব্যাংকিং খাতের পদ্ধতিগত ধস এড়াতে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে|
অর্থ পরিশোধের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ যথাসময়ে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে| তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৈধ আমানতকারীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে টাকা পরিশোধ করা হবে| ফলে সাধারণ গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো কারণ নেই|
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা| এই মূলধনের মধ্যে সরাসরি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সরকার সরবরাহ করেছে ২০ হাজার কোটি টাকা| বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের সমপরিমাণ অঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে| এছাড়া বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সাধারণ আমানতকারীদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে আমানত বীমা তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ বাবদ আরও ১২ হাজার কোটি টাকা অবমুক্ত করা হয়েছে| এই তহবিল থেকে একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ফেরত দেওয়া হচ্ছে| বাকি আমানত ধাপে ধাপে পরিশোধের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি স্কিম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার বাইরে গিয়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে এই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে|
এর আগে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিশেষ নির্দেশনায় ঘোষণা দেয় যে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন প্রযোজ্য হবে না| অর্থাৎ আমানতকারীদের মূল টাকা পুরোপুরি অক্ষত থাকবে| একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মূল আমানতের অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য শাখাগুলোতে আবেদন জমা দেওয়া শুরু করেন| ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিটি আবেদন ও গ্রাহকের হিসাবের সত্যতা কঠোরভাবে যাচাই করে অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিচ্ছে|
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের সমাপনী ব্যালান্স এবং স্থায়ী মেয়াদি আমানতের মূল টাকা বা আসল অংশ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন| তবে এই বিশেষ উদ্ধার সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট আমানতের ওপর জমা হওয়া কোনো অর্জিত মুনাফা বা সুদ প্রদান করা হবে না| নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো গ্রাহক যদি মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করে নেন, তবে ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্ট হিসাবটির যাবতীয় দেনাপাওনা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে| অন্যদিকে কোনো গ্রাহক যদি অর্থ উত্তোলন না করে নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে হিসাব চালু রাখতে চান, তবে তাঁর বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে নিয়মিত মুনাফা কার্যকর থাকবে|

তথ্যসূত্র: সমকাল


এ জাতীয় আরো খবর...