ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ বলেন, অটোরিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদনের পর বৈধ ও অনুমোদিত অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে চালকদের নিবন্ধন এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নীতিমালা অনুমোদনের পর অটোরিকশার নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ, চলাচল ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যান চার্জ দিতে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় পাঁচ শতাংশ প্রয়োজন হয়, যা আরও বেশি হতে পারে।
“বিপুল এই চাহিদার বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় তিন হাজার ৩০০টি। আর, শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। ফলে জাতীয় গ্রিড ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।”
মন্ত্রী এক পরিসংখ্যানের বরাতে আরও জানান, ২০২৫ সালে ৬৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১১ জন নিহত হন। আর দুর্ঘটনাযুক্ত যানবাহনের মাঝে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিল ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
“এই বাস্তবতায় প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ডিএমপি অভিযান চালাচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারকারী গ্যারেজেও অভিযান চলছে।”