শিরোনামঃ
ভাইভায় বিশেষ নম্বরে কাউকে পাশ করানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: পানিসম্পদমন্ত্রী লংমার্চে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘ফ্যাসিস্টরা’ মিছিল করছে: পাট প্রতিমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির কারণে মানুষ ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ কর্মকর্তাকে বদলি নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে: রুহুল কবির রিজভী কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী এআই দিয়ে আ.লীগপন্থি ভুয়া সংবাদ তৈরি, ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল অ্যানথ্রপিক
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব: জ্বালানি নিয়ে নিয়ে বাড়ল দুশ্চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় বহুল আলোচিত ‘চোখের জলের তোরণ’ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বিপজ্জনক এক মোড়ে এসে উপনীত হয়েছে| ইয়েমেনের সমগ্র লোহিত সাগরীয় উপকূলভাগ নিজেদের দখলে নেওয়ার পর এবার প্রণালির ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কৌশলগত পেরিম দ্বীপ নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা| আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের তিনটি প্রধান লাইফলাইন—পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি, মিসরের সুয়েজ খাল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব| ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জের ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন তীব্র সংকটের মুখোমুখি, ঠিক সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় বিকল্প পথ বাব আল-মান্দেবে হুতিদের এই আধিপত্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে এক অভাবনীয় আঘাতের সৃষ্টি করেছে| লোহিত সাগরের প্রধান প্রধান বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল রফতানির ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরটি এখন সরাসরি হুতিদের অস্ত্রের নিশানায়| ফলে হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবে অস্থিরতার এই বিস্তার বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট ও তীব্র মূল্যস্ফীতির ভয়াল বার্তা দিচ্ছে|
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অন্তত চারজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে হুতি যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার সামরিক অগ্রযাত্রা চালিয়ে পেরিম দ্বীপে অবস্থান শক্ত করেছে| এর ঠিক আগে দুই সরকারি কর্মকর্তা জানান, পেরিম দ্বীপের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত কৌশলগত উপকূলীয় ধুবাব নগরীর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যায় এবং সেখানকার সরকারি সেনাচৌকি থেকে সৈন্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়| এর আগের দিন বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণও দখল করে নেয় হুতি বাহিনী| আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সৌদি আরবের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত লোহিত সাগর থেকে আরব সাগরে প্রবেশের একমাত্র বহির্গমন জলপথ হলো বাব আল-মান্দেব| এটি মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত গ্যাস রফতানির প্রধান এবং একমাত্র বিকল্প হিসেবে কাজ করছিল| বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাব আল-মান্দেবে হুতিদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের দ্বিতীয় এই বৃহত্তম সামুদ্রিক করিডোর দিয়েও তেলের পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে|
সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই সামুদ্রিক করিডোরগুলোর গুরুত্ব কতটা ব্যাপক, তা স্বাভাবিক সময়ের নৌপরিবহনের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে| বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রায় ২৭ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে| অপরদিকে ভূমধ্যসাগরের সংযোগকারী সুয়েজ খাল দিয়ে পরিবাহিত হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এবং এলএনজি বাণিজ্যের অন্তত ৮ শতাংশ| এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১১ শতাংশ পণ্য এবং মোট এলএনজির ৮ শতাংশ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়| অর্থাৎ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো—সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইউরোপ ও আমেরিকায় যাওয়ার জন্য এই জলপথটির ওপর নির্ভরশীল| অথচ এই জলপথটিই এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে| আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারের একটিতে সামরিক সংঘাত ও অন্যটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বিশ্ব বাণিজ্যের ইতিহাসে বিরল এবং তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে একযোগে অচল করে দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখে|
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে রিয়াদ তাদের উৎপাদিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরগুলোতে এনে বাব আল-মান্দেব দিয়ে বের করার কৌশলগত বিকল্প ব্যবহার করছিল| তবে হুতিদের পেরিম দ্বীপ দখল এই বিকল্প রুটকেও চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে| ফলে প্রত্যক্ষভাবে সবচেয়ে বড় আর্থিক ও কৌশলগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সৌদি আরব| অবশ্য বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, হুতিরা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি আরব ছাড়া বাকি সবার জন্য উন্মুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ| অন্যদিকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুতিদের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট শর্ত উল্লেখ করে বলেছেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব তাদের দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করলেই কেবল সৌদির তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেওয়া হবে| কিন্তু এই তথাকথিত নিশ্চয়তার পরও আন্তর্জাতিক শিপিং ও সামুদ্রিক বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে| অতীতেও লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে অধিকাংশ শীর্ষ কন্টেইনার ক্যারিয়ার সুয়েজ ও বাব আল-মান্দেবের পথ এড়িয়ে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল, যার ফলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল|
এদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির এই নতুন সমীকরণ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মোড়কেও নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করছে| বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবের এই সংকট আখেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে অনেক বেশি সুবিধাজনক ও শক্ত দরকষাকষির অবস্থানে পৌঁছে দিচ্ছে| ইরানের মিত্র হুতিদের এই সামরিক অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটে নিপতিত হয়েছে| হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের প্রভাবে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে| আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, গতকাল দেশটিতে সাধারণ ডিজেলের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক শূন্য ৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা মার্কিন ভোক্তা ও পরিবহন খাতের ওপর চরম মূল্যস্ফীতির বোঝা তৈরি করেছে|
এর সরাসরি অভিঘাত আছড়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের খোলা বাজারে| ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় অপরিশোধিত তেলের বাজার গত বৃহস্পতিবার থেকে আরও নাজুক রূপ ধারণ করে| ওই দিন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার অতিক্রম করে যায়| গতকাল লেনদেনের একপর্যায়ে তেলের দাম সামান্য কমলেও সামগ্রিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই কাটেনি| আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি নিউজের সর্বশেষ বাজার তথ্যে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২১ ডলারে লেনদেন হয়েছে| অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক শূন্য ৮ ডলারে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে| জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর কোনো ধরনের সরাসরি আক্রমণ বা বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটলেই তেলের দাম মুহূর্তের মধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে|
এই বহুমুখী সামরিক ও কৌশলগত সংকট যে স্বল্প সময়ে শেষ হওয়ার নয়, তার স্পষ্ট ও ভীতিকর পূর্বাভাস দিয়েছে প্যারিসভিত্তিক বৈশ্বিক সংস্থা ‘আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা’ বা আইইএ| সংস্থাটি গতকাল প্রকাশিত তাদের পূর্বাভাসে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে যে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সামগ্রিক সরবরাহ ও বৈশ্বিক চাহিদা উভয়ই পূর্বে নির্ধারিত ধারণার চেয়ে বহুলাংশে হ্রাস পেতে পারে| আইইএ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বিশ্ববাজারে স্বাভাবিক তেল সরবরাহব্যবস্থা এমনভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে যে, এই জটিল সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে| অর্থাৎ আগামী অন্তত দুই বছর বিশ্ব অর্থনীতিকে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং কৃত্রিম পণ্য সংকটের এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দা কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে|
এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে ভৌগোলিক অবস্থানের এক নিখুঁত সামরিক জিম্মিদশা| পেরিম বা মায়্যুন দ্বীপটির আয়তন মাত্র ১৩ বর্গকিলোমিটার হলেও, এটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির গভীরতম চ্যানেল ‘দাক্কা আল-মায়্যুন’-এর একেবারে মুখে অবস্থিত| এখানে অবস্থান নিয়ে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল রাডার সিস্টেম স্থাপন করে সমগ্র জলপথের ওপর নজরদারি করা যায়| ফলে রিয়াদের ওপর চাপ প্রয়োগের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাসটি এখন হুতিদের হাতে চলে এসেছে| সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট একসময় কোটি কোটি ডলার খরচ করে এই অঞ্চলটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, কিন্তু সেই প্রতিরক্ষা বলয় এখন পুরোপুরি চুরমার হয়ে গেছে|
সর্বোপরি, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব এই দুই প্রধান সামুদ্রিক তোরণে একই সাথে বিরাজমান সংকট পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক অভাবনীয় জিম্মিদশার মুখে ফেলে দিয়েছে| লোহিত সাগরে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত হয়ে যায়, তবে প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৮০০ সামুদ্রিক মাইল পাড়ি দিতে হবে, যা প্রতি ট্রিপে প্রায় দশ থেকে বারো লাখ ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ তৈরি করবে| এই অতিরিক্ত খরচ চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপর| সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যের এই সামুদ্রিক সংঘাত কেবল রিয়াদ, ওয়াশিংটন কিংবা তেহরানের মধ্যকার সীমাবদ্ধ কোনো লড়াই নয়; এটি মূলত বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম সংকট| কূটনীতির টেবিলে দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বাব আল-মান্দেব বা ‘শোকাশ্রুর তোরণ’ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সত্যি সত্যিই এক দীর্ঘস্থায়ী কান্না ও আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে পরিণত হতে যাচ্ছে|
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর...