শিরোনামঃ
১২ নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার: আইনমন্ত্রী ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন ‘লেডি মীর জাফর’ বলে ফেসবুকে পোস্ট: ডিএজির বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: উত্তরে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম, দক্ষিণে সাদিক দেশের বিমা খাতে বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

তৃণমূলে বইছে নির্বাচনি হাওয়া: তফসিলের আগেই সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি| অথচ ক্যালেন্ডারের দিনক্ষণ কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই দেশের প্রত্যন্ত গ্রামবাংলায় শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনি তোড়জোড়| চায়ের দোকান, হাটবাজার, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের সরব উপস্থিতি| দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করায় তৃণমূলের রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে| বিশেষ করে সরকার পরিচালনায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রার্থিতার তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে| পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট, সিপিবি এবং বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে পুরোদমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন|
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মাঠের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৯৪টি ইউনিয়নেই আগাম প্রচারণার ঝড় উঠেছে| ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের চিত্র সবচেয়ে জমজমাট; সেখানে ধর্মপুর ইউনিয়নেই অন্তত ১৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন| এদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্টের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা যেমন রয়েছেন, তেমনি বোয়ালখালী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে শতাধিক আগ্রহী ব্যক্তি ভোটারের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন| দক্ষিণ জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নেই তাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন| তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে কেন্দ্র ও জেলা নেতৃত্বের সমন্বয়ে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; দলীয় নির্দেশনার বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখা হয়েছে| অন্যদিকে বোয়ালখালী জামায়াতের নেতৃত্ব প্রতিটি ইউনিয়নে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেছে|
উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক কেন্দ্রভূমি রাজশাহীর ইউনিয়নগুলোতেও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রীতিমতো স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে| বাগমারা উপজেলার গনিপুর ও গোয়ালকান্দির মতো ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান পদে অন্তত অর্ধডজন করে প্রভাবশালী নেতা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন| স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগতভাবে শক্ত অবস্থান থাকলেও তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা সামাল দেওয়াই দলটির জন্য সবচেয়ে বড় অ্যাসিড টেস্ট হতে যাচ্ছে| যদিও দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, মেয়র থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই তা বাস্তবায়ন করা হবে| বিপরীত মেরুতে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে জেলার সব পৌরসভা ও ইউনিয়নে নিজেদের একক প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে কৌশলে প্রচারণা এগিয়ে নিচ্ছে|
দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় থাকা ৩৫২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৭৩টিরই পাঁচ বছরের মেয়াদ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে| মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ইউনিয়নে প্রথম ধাপেই ভোটগ্রহণের জোর সম্ভাবনা থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে তুঙ্গে| স্থানীয় হিসাব বলছে, কেবল এই বিভাগেই চার সহস্রাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন| দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা সাধারণ মানুষও এবার অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের অপেক্ষায় দিন গুনছেন| তবে বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুরের মতো ১৯টি ইউনিয়নে প্রশাসক বসানোর ফলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা কাটাতে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলছেন সাধারণ ভোটাররা| বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক পর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে তৃণমূলের সমর্থনে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে| বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থীরাও নীরবে সামাজিক কর্মকাণ্ড জোরদার করে মাঠের সমর্থন পাকাপোক্ত করছেন|
সিলেটের ১৩টি উপজেলার ১০৬টি ইউনিয়নেও একই ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা যাচ্ছে, যেখানে গড়ে প্রতি ইউনিয়নে ছয় থেকে সাতজন করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রচারণায় নেমেছেন| ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ও সাদীপুর কিংবা সীমান্তবর্তী জাকিগঞ্জের ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর আধিক্য থাকলেও জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ ছাড়ছেন না| জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের মতের বাইরে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না| এদিকে বিভাগীয় শহর রংপুরের ৫৮টি উপজেলার ৫৩৫টি ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে| তবে ভোটারদের মানসিকতায় এবার স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে; চটকদার প্রতিশ্রুতির চেয়ে অতীতের দুঃসময়ে পাশে থাকা এবং কার্যকর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদেরই তাঁরা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন|
শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা নারায়ণগঞ্জের ৩৯টি ইউনিয়নেও গণসংযোগের মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে| রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ও সদর উপজেলায় প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন আগামী নভেম্বর নাগাদ ভোটের ঘণ্টা বাজাতে পারে—এমন গুঞ্জনে প্রার্থীদের তৎপরতা দ্বিগুণ রূপ নিয়েছে| সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রবাসী দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরিবেশ আরও উৎসবমুখর করে তুলেছেন| খুলনা অঞ্চলের ৯টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নেও একই চিত্র; সেখানে দলীয় প্রতীকে ভোট না হলেও দলগুলো সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে একক সমর্থন দেওয়ার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে|
স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পরই মূলত কঠোর নির্বাচনি আচরণবিধি কার্যকর হবে এবং আগাম প্রচারণায় কেউ নির্দিষ্ট আইনি সীমা অতিক্রম করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে| তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই আগাম জনসংযোগ তৃণমূলের রাজনীতিকে এক অভাবনীয় সজীবতা এনে দিয়েছে| দিনশেষে কার ভাগ্যে দলীয় সমর্থন জুটবে এবং ভোটারদের রায় কার পক্ষে যাবে, তা নির্ধারিত হবে আনুষ্ঠানিক ভোটযুদ্ধেই; তবে তৃণমূলের এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জড়তা ভেঙে গ্রামবাংলা এখন একটি অর্থবহ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত|
তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...