শিরোনামঃ
আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিলেন হাইকোর্ট আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার যে ব্যাখ্যা দিল পাকিস্তান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু অক্টোবরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ স্থায়ী কমিটির মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী অপতথ্য রোধে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা দরকার : তথ্য উপদেষ্টা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার যে ব্যাখ্যা দিল পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বাংলাদেশের একটি কার্গো বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতি ও প্রক্রিয়ার প্রতি ইসলামাবাদের পূর্ণ অঙ্গীকার রয়েছে। কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের আবেদন নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পর্যালোচনা করা হয়।

হাইকমিশন বলেছে, এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্ভবত ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
পাকিস্তান হাইকমিশন আরও বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইসলামাবাদ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই ঘটনাটিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বক্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায়নি রূপপুরের জ্বালানি

এর আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পৌঁছায়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি।
তিনি তখন বলেছিলেন, ঠিক কী কারণে পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা স্পষ্ট ছিল না। নতুন একটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং রাশিয়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও জানান, বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করা হচ্ছিল। পরে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্লাইটটি পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময় নির্ধারণ করতে হতে পারে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে নিম্নসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রুশ ভারী কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে এসব পারমাণবিক জ্বালানির কনটেইনার পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।


এ জাতীয় আরো খবর...