দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান হলো নির্মল বাতাস, অথচ সেই বাতাসই এখন হয়ে উঠেছে নীরব ঘাতক। রাজধানী ঢাকা একসময় দূষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে এই ভয়াবহ সমস্যাটি আর কেবল একটি শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের পরিক্রমায় এই দূষিত বায়ু এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য বড় শহর, ক্রমবর্ধমান শিল্পাঞ্চল এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শহরগুলোতেও। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে, বছরের অর্ধেকটা সময়ই দেশের মানুষকে মারাত্মক দূষিত বাতাসে শ্বাস নিতে হচ্ছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার একের পর এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, জরিমানা আদায় ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযানও অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, এতসব উদ্যোগের পরও দূষণের মাত্রা আশানুরূপভাবে কমছে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যেখানে পরিবেশদূষণকারী মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি প্রত্যাহার, সড়কে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু এবং নির্মাণকাজে সনাতন ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের মতো আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে পাঠানো একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের মূল কারণ ও সরকারি কর্মপরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মূলত শীতকাল ও শুষ্ক মৌসুমে ঢাকাসহ সারা দেশে বায়ুদূষণের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বেড়ে যায়। এই সময়ে যত্রতত্র ইট পোড়ানো, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালি, রান্নার কাজে লাকড়ি বা কাঠের ব্যবহার, গাছের লতাপাতা পোড়ানো, ময়লা-আবর্জনা এবং পৌর বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে পোড়ানোর মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে চলতে থাকে। এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে ভৌগোলিক কারণ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বৃহত্তর ঢাকার প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ বা ট্রান্সবাউন্ডারি এয়ার পলিউশন সরাসরি দায়ী। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে দূষিত বায়ু উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এখানকার বাতাসকে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে তোলে। এই আন্তঃসীমান্ত দূষণের সঙ্গে যখন স্থানীয় শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসরণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া যুক্ত হয়, তখন ঢাকার বায়ুর মান আক্ষরিক অর্থেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
এমন এক দমবন্ধ করা প্রেক্ষাপটে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আওতায় বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৩৬ নম্বর ধারার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এই ধারার আওতায় যেসব যানবাহন মাত্রাতিরিক্ত দূষণ সৃষ্টি করছে এবং যেগুলো এরই মধ্যে তাদের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বা ইকোনমিক লাইফ অতিক্রম করেছে, সেগুলোকে চিরতরে সড়ক থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা শহরে যত্রতত্র নির্মাণকাজ এবং সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ ও উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের বর্জ্য পোড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ার মাত্রা মাপতে সার্বক্ষণিক ‘অনলাইন স্ট্যাক নিঃসরণ পরিমাপ’ বা সিইএমএস প্রযুক্তির আওতায় আনার একটি মেগা পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের বিশাল নির্মাণ খাতেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায়, সরকারি সব ধরনের নির্মাণকাজে ১০০ শতাংশ এবং বেসরকারি পর্যায়ের অ্যাপার্টমেন্ট বা আবাসন নির্মাণে অন্তত ৩০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার আইনিভাবে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অনুমোদনের যাবতীয় কার্যক্রমে মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে যে, বর্তমানে ছয়টি স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং স্টেশনের মাধ্যমে ঢাকার সার্বক্ষণিক বায়ুমান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর বাইরে ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোর বায়ুদূষণ নিখুঁতভাবে পরিমাপের জন্য নতুন করে আরো ছয়টি রোডসাইড সার্বক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’ এবং ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন এবং ঢাকাসহ এর আশপাশের দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট, এনফোর্সমেন্ট অভিযান ও আইনি মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে।
আইন প্রয়োগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তৎপরতার একটি সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাতটি বড় ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় দূষণকারীদের কাছ থেকে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি অবৈধ ইটভাটার বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবা সংযোগ চিরতরে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং চারটি ইটভাটা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধেও প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২২০টি মামলা করা হয়েছে এবং এসব মামলায় প্রায় পাঁচ লাখ ৩২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অবৈধভাবে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা এবং উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানোর বিরুদ্ধেও ৫১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব সাঁড়াশি অভিযানে ৭৮টি মামলা দায়ের করে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বায়ুদূষণের অন্যতম নীরব অথচ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উৎস হলো অবৈধ সিসা কারখানা বা সিসা ভাটা। ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির এসব কারখানার বিরুদ্ধেও পরিবেশ অধিদপ্তর কঠোর অভিযান চালিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাতটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় সাত লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার পাশাপাশি ১০টি বিষাক্ত সিসা কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ অবৈধ টায়ার পাইরোলাইসিস কারখানার বিরুদ্ধেও ছয়টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে তেল ও কালি তৈরির এসব কারখানায় পরিচালিত অভিযানে ১৮টি মামলা করে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া দুটি কারখানার সব ধরনের সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ১৮টি কারখানা ভেঙে দিয়ে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যে একদিকে যেমন দূষণের প্রধান উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ ও অভিযান জোরদার করার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে নির্মাণসামগ্রীর ধরনে পরিবর্তন আনা, পুরনো ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রত্যাহার, রাস্তায় ইলেকট্রিক বাস চালু এবং শিল্প-কারখানার বিষাক্ত নিঃসরণ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মতো অত্যন্ত আধুনিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকার বায়ুর মান দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে উন্নত করতে হলে কেবল পরিকল্পনা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, বরং এসব উদ্যোগের কঠোর বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি বা মনিটরিং নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের বায়ুদূষণসংক্রান্ত সরকারি ডাটা বা তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। দেখা গেছে, পর্যবেক্ষণ করা সময়ের প্রায় অর্ধেকটা জুড়েই দেশের কোনো না কোনো মনিটরিং স্টেশনে পিএম ২.৫ অথবা পিএম ১০-এর মাত্রা জাতীয় নিরাপদ সীমাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের নিজস্ব বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার গড় হিসাবে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ জাতীয় মানমাত্রা বা নিরাপদ সীমা হলো ৬৫ মাইক্রোগ্রাম এবং পিএম ১০-এর ক্ষেত্রে এটি ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু গত ছয় মাসের তথ্য বলছে, বাতাসে পিএম ২.৫-এর গড় মাত্রা জাতীয় গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে চার থেকে ছয় গুণ বেশি ছিল এবং পিএম ১০-এর গড় মাত্রা ছিল নিরাপদ সীমার দ্বিগুণেরও অনেক বেশি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সংগৃহীত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের ১৬টি স্টেশনের মোট দুই হাজার ৪৭৬টি স্টেশন-দিনের মধ্যে এক হাজার ১৫২ দিনই পিএম ২.৫ অথবা পিএম ১০-এর মাত্রা জাতীয় মানমাত্রার ওপরে অবস্থান করছিল। অর্থাৎ, পর্যবেক্ষণ করা সময়ের প্রায় ৫০ শতাংশ স্টেশন-দিনই বাতাস ছিল নির্ধারিত সীমার চেয়ে মারাত্মক মাত্রায় বেশি দূষিত। এটি শুধু কোনো একটি নির্দিষ্ট ঋতু বা একটি নির্দিষ্ট শহরের চিত্র নয়, বরং টানা ছয় মাসের পুরো সময়েই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে দূষণের এই চরম চাপ বিদ্যমান ছিল। বিশেষ করে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে সার্বিক পরিস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সাভার, গাজীপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরের মতো জনবহুল শহরগুলোর বাতাসেও পিএম ২.৫ ও পিএম ১০-এর মাত্রা বারবার নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত।
এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন কর্মপরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা শতভাগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্রের পরিচালক ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান যে, বায়ুদূষণ হলো একটি অদৃশ্য সংক্রামক ও ভয়াবহ জীবনঘাতী সংকট। এই লাগামহীন বায়ুদূষণের কারণেই একজন গড়পড়তা বাংলাদেশির আয়ু প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর কমে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ বাস্তবতায় সরকারের নেওয়া আধুনিক কর্মপরিকল্পনাগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, শুধু কাগজে-কলমে আইন থাকলেই হবে না, প্রকৃত অর্থে এর সুফল পেতে হলে কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং জোরদার করতে হবে, সরকারি সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং দূষণ রোধে সর্বস্তরের নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।