সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাত: কুষ্টিয়া কারাগারের জেলার ফাত্তাহ বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সাময়িক বরখাস্ত জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আব্দুল ফাত্তাহ জেলার হিসেবে ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মকালীন সময়ে কারাগারের ২০১৮-২০২৪ আর্থিক সালের বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে খোরাকী রেশন ‘৩২৫৪১০৪’ খাতে সরকারি অর্থ তছরূপ ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তর কর্তৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ২০২০-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালে ৩টি ভুয়া (বাবা মায়ের দোয়া, নূর স্টোর, শুভ স-মিল) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাস করে মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয় তিনি পঞ্চগড় জেলা কারাগারে ২০২৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ আর্থিক সালে ৩টি ভুয়া (বাবা মায়ের দোয়া, নূর স্টোর, শুভ স-মিল) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারী ও কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিল পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত করেছেন। এই আত্মসাতকৃত টাকা ৯টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, পঞ্চগড় শাখায় জমা প্রদান করেছেন; যার মধ্যে তিনি ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।

ওই সময়ে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৪টি আলাদা চাহিদাপত্র দিয়ে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা করেন এবং তিনি কর্তৃত্ব বহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে জেল সুপারকে বাইপাস করে আর্থিক চিঠিপত্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা সহকারীর পরিবর্তে কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলকে মার্ক করে সব বিল প্রস্তুত, রেজিস্টার লিপিবদ্ধকরণ ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করেন এবং
বর্ণিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা অধিদপ্তর হতে গত ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুরোধ জানানো হয়।

সে পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(থ) ও ৩(ঘ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ’ ও দুর্নীতি পরায়ণ’ এর দায়ে তাকে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় মামলা রুজু করে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে কারণ দর্শানো হয়। তিনি বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে জবাব প্রদান করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির প্রার্থনা করেন। গত ৭ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

ব্যক্তিগত শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তের জন্য গত ১৯ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে মতামত প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন তথ্য-প্রমাণ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল), ২০১৮ বিধিমালার ৪(৩) (ঘ) বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গত ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। গত ৫ জুলাই দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের লিখিত জবাব দাখিল করেন তিনি। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব, অভিযোগের গুরুত্ব এর প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি বিবেচনায় তাকে বরখাস্তেরর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(১০) এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ এর রেগুলেশন-৬ অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করার আরোপের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন তাকে ২৯ সেপ্টেম্বর পরামর্শ প্রদান করে।

এরপর মো. আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণ’ এর প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (ঘ) বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।


এ জাতীয় আরো খবর...