শিরোনামঃ
হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে: আইনমন্ত্রী তিনি একদম ঠিক আছেন: ইউনূস সেন্টার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যু ইরানি নেতাদের হত্যা করার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো অনেকদূর চলে গেছি: ট্রাম্প জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তদন্ত করছে সৌদি আরব প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই : পরিবেশমন্ত্রী জাতীয় তথ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ৯০ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘জেলেরা নিজেরা মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সচেতন না হলে ২৫ কেজি কেন, ১০০ কেজি চাল দিলেও ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।’

আজ চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদি গ্রামের বড় খান বাড়ীর মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। অন্যদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সরাসরি ইলিশ আহরণের সঙ্গে জড়িত। ফলে ইলিশের জীবনচক্র, প্রজনন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে আপনাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে আগামী বছরও ইলিশ পাওয়া যাবে। তাই মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই সবচেয়ে বেশি।

চাঁদপুরের ইলিশের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, এক সময় এ অঞ্চলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। ইলিশ পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য এখানে অনেক বরফকল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সেই কর্মচাঞ্চল্যও অনেকটা হারিয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জেলেদের আর্থিক সংকট ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে জেলেদের পরিবারকে সংসার চালাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেককে ঋণ নিতে হয়, যা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শুধু সাময়িক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জেলেদের জন্য টেকসই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা বিবেচনায় নিয়ে নদীর পানিকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ সব সময় সহজ নয়। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে মাছ ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষসহ আধুনিক ও উপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ও জেলেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি জেলেদের নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে, যার সুফল জেলে পরিবারসহ দেশের মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ভোগ করবেন।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট এ কে এম সেলিম উল্যা সেলিম। এ সময় স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন।


এ জাতীয় আরো খবর...